পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সন্ন্যাসীকে প্রার্থী করার নজির খুব একটা নেই। এই সেই কাজটা করেই চমকে দিল বিজেপি (BJP)। উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) কালিয়াগঞ্জ থেকে প্রার্থী হলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের (Bharat Sebashram Sangha) সন্ন্যাসী স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজি মহারাজ। উৎপল মহারাজ নামেই তিনি অধিক পরিচিত। তবে কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়কে এ বারে আর প্রার্থী করেনি বিজেপি। এই নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল।
উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। লোকসভা ভোটেও এই বিধানসভায় এগিয়ে ছিল পদ্মশিবির। গত বারের জেতা আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে এই নিয়ে জল্পনা চলছিল। সৌমেনের দিকেই ছিল পাল্লা ভারী।
সৌমেন রায় ছিলেন বিজেপির ‘অটোমেটিক চয়েস’। তবে জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বারবার দলবদল করায় তাঁর উপরে আর ভরসা রাখতে পারেনি বিজেপি। একুশের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হন তিনি। কিন্তু জেতার পরেই শিবির বদলে তৃণমূলে যোগ দেন। শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে।
দলত্যাগ আইনে সৌমেনের বিধায়ক পদ খারিজের মামলা করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক প্রকার চাপে পড়েই ঘর ওয়াপসি করেন সৌমেন। কিন্তু এই দলবদলে তাঁর উপর থেকে বিজেপির ভরসা চলে গিয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। তাই এ বার তাঁর বদলে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজি মহারাজকে প্রার্থী করল বিজেপি।
কিন্তু সন্ন্যাসী হয়ে রাজনীতিতে কেন? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কায়দায় ফ্রন্ট ফুটে ব্যাট করলেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপির প্রার্থী উৎপল মহারাজ। তিনি বললেন, ‘সেবাই আমার ধর্ম-কর্ম। দেশ-জাতির সেবার উদ্দেশেই সন্ন্যাসী হয়েছিলাম। সমাজে কাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে দুর্দশা দেখলাম, তাতে মনে হয়েছে রাজনীতিতে আসার প্রয়োজন।’ যদিও সৌমেন রায় এই নিয়ে মুখ খোলেননি। ‘এই সময় অনলাইন’-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ফোন সুইচড অফ ছিল।