ভোট ঘোষণার (West Bengal Election 2026) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এমনকী প্রশাসনিক স্তরেও করা হয়েছে রদবদল। এই নিয়ে সোমবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তিনি লিখেছেন, ‘একতরফা ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলে অভিযোগ তাঁর।
রবিবার রাতে প্রথমে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে বদলি করে কমিশন। তাঁর কিছুক্ষণ পরেই জানা যায় রাজ্যের পুলিশের ডিজি-র পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডে ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতীম সরকারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের এমন আকস্মিক বদলিতে শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।
কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই এই বদলি করা হয়েছে বলে এ দিনের চিঠিতে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি লিখেছেন, ‘কেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হলো, তাঁদের ত্রুটি কোথায় ছিল, সেই সংক্রান্ত কোনও কিছু না জানিয়েই বদলি করে দেওয়া হয়েছে।’
তবে অতীতেও এমনটা হয়েছে। চিঠিতে তাও লিখেছেন মমতা। কিন্তু সেই সময়ে একটা সৌজন্য ছিল। তাঁর কথায়, ‘আগে কমিশন রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করত। আমাদের তিন জন কর্তার একটি প্যানেল দিতে বলা হতো, সেখান থেকে একজনকে বেছে নিত কমিশন।’ কিন্তু এ বারে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি লিখেছেন, ‘গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি একতরফা ভাবে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হলো।’
কমিশন কোনও যুক্তরাষ্ট্রীয় রীতি মানেনি বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা আশা করি, কমিশন শুধু ক্ষমতার প্রয়োগ নয়, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোও মেনে চলবে।’ ভবিষ্যতে এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্যও কমিশনকে অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হয়েছেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও কারা দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব। আর নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হয়েছেন সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। তিনি হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের সচিব ছিলেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় অজয়কুমার নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের জায়গায় সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন।