এই সময়, বর্ধমান: ডিজিটাল মাধ্যমে (Digital Sector) এ বার সরাসরি রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী আহ্বান করে প্রচার শুরু হয়ে গেল। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘হিন্দুত্বের পক্ষে, বাংলার ভবিষ্যতের পক্ষে একসাথে দাঁড়ান।’ এই পোস্টের নীচে রয়েছে একটি সংগঠনের নাম ‘ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টি’ (Hindu Sena Party)।
সেখানেই শেষ নয়। অভিনব এই পোস্টে লেখা রয়েছে আগ্রহী প্রার্থীদের যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ একটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে সেই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) করেও আগ্রহী মানুষ যোগাযোগ করতে পারেন। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি শর্তও দেওয়া হয়েছে। প্রথমত আগ্রহী প্রার্থীকে হতে হবে যোগ্য, সৎ এবং নিষ্ঠাবান। দ্বিতীয়ত তাঁকে জনতার জন্য কাজ করার মতো মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত হতে হবে সমাজ এবং রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আগ্রহী।
জেলায় এই নতুন পোস্টার নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পদ্ম–শিবিরের গোষ্ঠীকোন্দলের কারণে এমন ধরনের প্রচার। অনেকে আবার আলোচনা করছেন, এটা যদি সত্যিই হয়, সে ক্ষেত্রে হিন্দু ভোটে টান পড়বে। জেলায় আদি-নব্য বিজেপির দ্বন্দ্বের কথা সবাই জানেন। ফলে সরকারি ভাবে কেউ বিজেপির প্রার্থী না–হতে পারলে রয়েছে এই বিকল্প পথ। অনেকে নিজের পরিচয়ের জোরেও ভোট পেতে পারে।
বর্ধমানের এক আদি বিজেপি নেতা সন্দীপ পাল সমাজমাধ্যমে ভারতীয় হিন্দু সেনার প্রচারের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বিজেপিতে যাঁরা টিকিট পাবেন না, তাঁদের আর তৃণমূলে যাওয়ার দরকার নেই। নতুন পার্টি এসে গিয়েছে। চট করে ফোন করে নিন আর দাঁড়িয়ে যান।’ আর এক আদি বিজেপি নেতার বক্তব্য, ‘বিজেপির পদাধিকারীরা এখন তৃণমূল, সিপিএমের দালালে পরিণত হয়ে গিয়েছেন। যাঁরা দলের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন, এখন তাঁদের কোনও গুরুত্ব নেই। হিন্দুত্ববাদী কার্যকর্তাদের একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই হিন্দুত্ববাদী আদি বিজেপি কার্যকর্তারা ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে থাকবে। ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টি হিন্দুত্ববাদী কার্যকর্তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’
আদি বিজেপি নেতা কেশব কোঙার বলেন, ‘জেলায় সিপিএমপন্থী, তৃণমূল জেলা সভাপতিদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।’ ভোটের ময়দানে প্রত্যেক বারই অনেক কিছু ঘটে থাকে। ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টির হাত ধরে আদি বিজেপি কতটা দাগ কাটে, সেটাই দেখার। যদিও জেলায় বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব বিষয়টিকে খুব একটা আমল দিচ্ছেন না। তাঁরা মনে করেন, ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টিও রাজ্যে পরিবর্তন আটকাতে পারবে না। বিজেপির মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় এই পোস্ট নিয়ে নিয়ে বলেন, ‘এই ধরনের কোনও দল রয়েছে কি না, জানা নেই। নির্বাচন ঘোষণার পরে কোনও দলের নামও ঘোষণা করা যায় কি না, সেটাও আমার অজানা। এই দল তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।’ তৃণমূলের জেলার সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের ফসল। আমরা এই সব বিষয়ে নেই।’