এই সময়, চন্দ্রকোণা: নিয়োগে মানা হয়নি কোনও নিয়ম। দেওয়া হয়নি নোটিসও। এমনই অভিযোগ তুললেন চন্দ্রকোণা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির (Chandrakona Cooperative Agricultural Development Society) পরিচালন কমিটি বোর্ডের কয়েক জন সদস্য। যার জেরে সমবায় সমিতিতে কর্মী নিয়োগ নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে বিডিও (BDO)–র দ্বারস্থ হয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
সোমবার এই সমবায় সমিতিতে তিন জন অস্থায়ী কর্মীকে নিয়োগ করা হয়। সমবায় সূত্রে জানা যায়, ১৮ মার্চ বুধবার এই তিন জন কাজে যোগ দেবেন। নয় সদস্যর সমবায় সমিতির পরিচালন বোর্ডের তিন জন সদস্যকে এ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বোর্ডের এক সদস্য বুদ্ধদেব দাস বলেন, ‘বোর্ডে কোনওরকম আলোচনা না করে সেক্রেটারি নিজের পছন্দমত তিন জনকে নিয়োগ করেছেন। তিনি সমিতির ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে ওঁদের নিয়োগ করিয়েছেন। কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ হয়েছে। আমরা বিডিও–কে বিষয়টি জানিয়েছি। জেলায় সমবায় সমিতির সহকারী নিবন্ধককেও জানানো হবে।’
বোর্ডের আর এক সদস্য প্রতিমা সাঁতরা বলেন, ‘নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও আলোচনা বোর্ড মিটিংয়ে হয়নি। অথচ আমরা খবর পাই, সেক্রেটারি কয়েক জনের সই নিয়ে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা জানতে পেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে চিঠি দিই ব্লকের কো-অপারেটিভ ইনস্পেক্টর ও জেলায় সমবায় সমিতির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারকে। জেলা থেকে ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়। কিন্তু কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির সেক্রেটারি অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সমিতিতে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন। না হলে কাজকর্ম অচল হয়ে পড়বে। বোর্ডের সিদ্ধান্তে নিয়োগ করা হয়েছে। তিন জন আবেদন করায় তাঁদের ডেইলি বেসিসে নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা থেকে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আমি জানাব। যদি নিয়োগ বেআইনি হয় তাহলে বাতিল হবে।’ তাঁর দাবি, বোর্ডের হাতেও ক্ষমতা রয়েছে নিয়োগের।
সমবায় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দু’জন স্থায়ী ও তিন জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। তিন জন অস্থায়ী কর্মীর মধ্যে দু’জন এক্সটেনশনে ছিলেন। এক জনের মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে। আর এক জনের চলতি মাসেই শেষ হবে। ফলে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়াবে একজন। কর্মী নিয়োগের ক্ষমতা সমবায় পরিচালন বোর্ডের হাতে থাকলেও তার অনুমোদন নিতে হয় অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে। নিয়োগের বিরোধিতা করা পাঁচ জন বোর্ড সদস্য বলেন, ‘নিয়োগে স্থগিতাদেশ চেয়ে আমরা সোসাইটিকে চিঠি দিয়েছিলাম। উনি সমবায় ম্যানেজার ও বোর্ডের কাছে নিয়োগের ব্যাপারে রিপোর্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু তার উত্তর দেওয়া হয়নি।’
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা রেঞ্জের কো-অপারেটিভ সোসাইটির এক আধিকারিক বলেন, ‘নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’ সমবায় সমিতির ম্যানেজার শক্তিপদ দত্ত বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। সোসাইটির হেড সেক্রেটারি আমাকে লিখিত ভাবে অনুমতি দেওয়ায় ওই তিনজনকে নিয়োগ করা হয়েছে।’