দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টাও কাটল না। বাংলার ১৪৪টি বিধানসভা আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিল বিজেপি। প্রথম সেই তালিকায় অবশ্য তেমন কোনো চমক নেই। তবে বাদ গিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিদায়ী বিধায়ক। ১৪৪ জনের নাম খতিয়ে দেখে একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলের পুরানো এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদেরই। অর্থাৎ, ভরসা বিজেপির সেই আদিপন্থীদের উপরই। বিশেষ গুরুত্ব পায়নি দলবদলুদের মতামত। ফলে আপাতত বড়ো হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন— তবে কি এবারের ভোটে তথাকথিত দলবদলু নেতাদের ‘ডানা ছাঁটা’র পরিকল্পনা করেছে বাংলার গেরুয়া শিবির? নাহলে একাধিক বিদায়ী বিধায়ককে ফের টিকিট দেওয়া হল না কেন? তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপির প্রথম তালিকায় মহিলা প্রার্থীর সংখ্যাও কম। প্রশ্ন তা নিয়েও।
টিকিট না পাওয়া বিধায়কদের মধ্যে অন্যতম অভিনেতা হিরণ তথা হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এবার তাঁকে সরিয়ে খড়্গপুর সদর বিধানসভা আসনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে পোড়খাওয়া বিজেপি নেতা, প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে। ২০২১ সালের ভোটে কালিয়াগঞ্জে বিজেপির টিকিটে জয়ী সৌমেন রায়ের নামও নেই এদিনের তালিকায়। গতবার নির্বাচনি ফলপ্রকাশের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। কিছুদিন বাদে আবার ফিরে আসেন গেরুয়া শিবিরে। এবার কালিয়াগঞ্জ আসন থেকে তাঁর পরিবর্তে টিকিট পেয়েছেন উৎপল মহারাজ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দু’টো কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছেন বটে! কিন্তু দলের একাংশের ব্যাখ্যা, শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রে প্রার্থী হলে তাঁর জয় নিয়ে সংশয় রয়েছে নেতৃত্বের একটি অংশের। তাই কিছুটা চমক এবং বাকিটা অনুকরণের চেষ্টায় তাঁকে দুটো আসনেই টিকিট দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে এদিন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাদ রাখা হয়েছে নাটাবাড়ি কেন্দ্রটি। সেখানকার বর্তমান বিধায়ক মিহির গোস্বামী একদা কংগ্রেসে ছিলেন। পরে তৃণমূল ঘুরে বিজেপি শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তিনি টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। তবে শিলিগুড়ি আসনে দলবদলু নেতা তথা বিদায়ী বিধায়ক শংকর ঘোষ টিকিট পেয়েছেন। এছাড়াও শীতলকুচি, আরামবাগ, রঘুনাথপুর, বলরামপুর, বালুরঘাটের মতো একাধিক আসনে বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি বিজেপি। বালুরঘাটে প্রার্থী করা হয়নি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকেও। রানাঘাট দক্ষিণ আসন নিয়েও ডামাডোল চরমে। এই তালিকা ঘিরে টানাপোড়েন নিয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপির অন্যতম এক শীর্ষ নেতার দাবি, যেসব বিধায়ক আগের কেন্দ্রে এবার আর টিকিট পাননি, তাঁদের একটি অংশের আসন পাল্টে দেওয়া হবে।
প্রথম তালিকা প্রকাশের কয়েকঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী পরিতোষ দাসকে বদল করার দাবি উঠেছে আলিপুরদুয়ারে। ক্ষুব্ধ কর্মীরা জেলা পার্টি অফিসেই ব্যাপক ভাঙচুর চালান । পূর্ব মেদিনীপুরে মহিষাদলে এক ঠিকাদার, পাঁশকুড়া পূর্বে নামী স্বর্ণ বিপণির ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়া এক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে প্রার্থী হিসাবে। সেই নিয়ে অসন্তোষের জেরে পদত্যাগ করেছেন জেলা কমিটির এক সদস্য। উত্তর হাওড়ায় গতবারের পরাজিত প্রার্থী উমেশ রাইকে টিকিট দেওয়ায় চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হুগলির সপ্তগ্রামে গতবারের প্রার্থী ইতিমধ্যে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছে। সেখানে আবারও এক দলবদলুকে টিকিট দেওয়ায় চড়ছে অসন্তোষ।