গেরুয়া শিবিরের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই আলোচনার কেন্দ্রে হিরণ চট্টোপাধ্যায়। BJPর প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় নামই নেই খড়গপুরের বিদায়ী তারকা বিধায়কের। উপরন্তু তাঁর জেতা সিটেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh)। তালিকা অনুযায়ী, নিজের গড় খড়গপুর চেনা নেতাকে ফিরে পেতেই প্রশ্ন উঠছে তারকা প্রার্থী হিরণের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে কি ২৬-এর নির্বাচনে টিকিট পাচ্ছেন না গেরুয়া শিবিরের তারকা প্রার্থী হিরণ, নাকি তাঁর জন্য অন্য কোনও কিছু ভেবেছে দল? খড়গপুরের বিদায়ী বিধায়কের বক্তব্যে বিশেষ ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত। তবে ২৬-এর নির্বাচনে কি হিরণ বাদ? এই প্রশ্নের উত্তরে এইসময় লাইভ-কে হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) জানান,‘২০২১-এ সম্ভবত আমার নামটা একেবারে শেষে ঘোষণা করা হয়েছিল। নমিনেশনের একদিন আগে ৮ মার্চ সন্ধেয় আমার নাম ঘোষিত হয়। আমি একদিনের মধ্যে নমিনেশন ফর্ম ফিলআপ করেছিলাম। ১০ তারিখ নমিনেশন জমা করার শেষ দিন ছিল। ৯ তারিখ রাত সাড়ে বারোটায় কলকাতা থেকে খড়গপুরে পরের দিন সকালে একেবারে শেষ মুহূর্তে নমিনেশন জমা করেছিলাম।’ পাঁচ বছরের আগের ঘটনা মনে করিয়ে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বলেন,‘এতেই আপনাদের যা বোঝার বুঝে নেওয়া উচিত।’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও ১৫০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। সে ক্ষেত্রে জনপ্রিয় কোনও কেন্দ্রে আবারও টিকিট পেতে পারেন ২১-এর তারকা প্রার্থী। তবে হিরণের একেবারে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে সেরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক। সূত্রের খবর, সেই বিতর্কের কারণে অসন্তুষ্ট হাইকম্যান্ডও। তার জেরে শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে টিকিট হাতছাড়া হওয়া অসম্ভব কিছু নয় বলেও মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
তবে খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের ফিরে আসা কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়। খড়গপুর এই বিজেপি নেতার গড় বলেই খ্যাত। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনে বিজেপির হয়ে লড়াই করেছিলেন এই দাবাং নেতা । সে বার পরাজিত করেছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ‘অজাতশত্রু’ বিধায়ক জ্ঞান সিং সোহনপালকে। এখানেই শেষ নয়। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতা মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেদিনীপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২০২১-এ তাঁকে সেই আসন থেকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছিল অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। সে সময়ে গেরুয়া শিবিরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এই নেতা। ২৬-এ বদলেছে সমীকরণ। তৃণমূলের পালের হওয়া কেড়ে আনতে দিলীপ ঘোষকে তাঁর চেনা মাঠই ফিরিয়ে দিল হাইকম্যান্ড। দলে যে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে তা প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতিই বুঝিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দিলীপের প্রত্যাবর্তনে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে হিরণের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।