• অন্যকে বাবা সাজিয়ে ধূপগুড়িতে বিয়ে বাংলাদেশি যুবকের, মোবাইল অ্যাপে পাকিস্তানে টাকাও?
    এই সময় | ১৭ মার্চ ২০২৬
  • রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি

    গ্রামের লোকজন প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। গ্রামের জামাই আলিফ ইসলামকে কেন ঘিরে রয়েছে পুলিশ? হাতকড়া–ই বা কেন? পরে জানা যায়, পাকিস্তানে টাকা লেনদেনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কেরালা পুলিশ। তদন্তের জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে ধূপগুড়িতে। গত মাসে পাক গুপ্তচর সন্দেহে মুর্শিদাবাদের গুধিয়া গ্রাম থেকে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তাঁদের বিরুদ্ধেও পাকিস্তানে টাকা লেনদেনের অভিযোগ ছিল। আলিফ অবশ্য জানান, মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতেন তিনি। তবে পাকিস্তানে টাকা পাঠানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এক বন্ধুর জরুরি প্রয়োজনে তাঁকে মোবাইলটি দিয়েছিলেন। ওই বন্ধু পাকিস্তানে কারও সঙ্গে টাকা লেনদেন করেছিলেন।

    আলিফ যা–ই বলুন পুলিশ অবশ্য তাঁর কথা বিশ্বাস করছে না। গুজরাট থেকে চার যুবককে গ্রেপ্তারের পরে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে ধরা হয়েছে। কারণ তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের লালমণিরহাটে। পাঁচ বছর আগে ধূপগুড়ির পাটকিদহ জাকইকোনা এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী পারভিনের সঙ্গে তাঁর সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চার বছর আগে কাঁটাতার টপকে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেন আলিফ। ভেমটিয়া এলাকার বাসিন্দা এজাজুল ইসলামকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে মৌসুমীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন। নির্মাণ শ্রমিকের কাজের সূত্রে বছর দু'য়েক আগে কেরালায় যান। মাস পাঁচ–ছয় কাজ করে ধূপগুড়িতে শ্বশুরবাড়ি আসতেন। আবার কাজে ফিরে যেতেন। স্ত্রী মৌসুমীকেও একবার কেরালায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পরে আবার তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কয়েক দিন আগে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী। তবে গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। সোমবার আচমকা ধূপগুড়ি থানায় কেরালা পুলিশের একটি বিশেষ দল আলিফকে নিয়ে হাজির হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁরা অভিযুক্তকে নিয়ে এজাজুলের বাড়িতে যান। তার পরেই হাতকড়া অবস্থায় গ্রামের জামাইকে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর রটতেই ভেমটিয়া এলাকায় মানুষ ভিড় করেন। তাঁরা গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। তদন্তে আসা কেরালা পুলিশের আধিকারিক ইরান্না শিরাগুম্পি তাঁদের বলেন, 'ধৃত যুবক বাংলাদেশের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করতে ধূপগুড়িতে এসেছেন। প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তানে টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।'

    এ দিন পুলিশের সামনে পরিবারের সদস্যদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ধৃত যুবক। তাঁর স্ত্রী বলেন, 'চার বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ধূপগুড়িতে এসে আমাকে বিয়ে করে। পরে কাজের জন্য ভিনরাজ্যে চলে যায়। তবে আমার বিশ্বাস, এই ঘটনার সঙ্গে আমার স্বামীর কোনও যোগ নেই। ওঁর বন্ধু অনলাইনে পাকিস্তানে কারও মোবাইলে কোনও কিছু রিচার্জ করে দিয়েছিলেন। সেই কারণে পুলিশ ধরেছে।' ধূপগুড়ি থানার পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। প্রতিবেশী আবু তালেব বলেন, 'পুলিশ আসার পরেই আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশের কাছ থেকে শুনেছি, ওই যুবকের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এবং তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা। এজাজুলকে বাবা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। পুলিশ অবশ্য তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)