এই সময়: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রবিবার বিকেল থেকেই বাকি চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) লাগু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের কী করণীয়, তার বিস্তারিত খতিয়ানও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ। কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও সরকারি ভবন বা গাড়ির অপব্যবহার করতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলি। সরকারি টাকায় কোনও বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।
কোনও মন্ত্রী তাঁর সরকারি কাজের সঙ্গে ভোটের প্রচারকে যাতে গুলিয়ে না–ফেলেন, সেটাও স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, নির্বাচনী প্রচারের কাজে সরকারি গাড়ি, নিরাপত্তা এ সবও কোনও মন্ত্রী ব্যবহার করতে পারবেন না। বরাবরই নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনের নির্দেশিকা জারি হয়। আবার নির্দেশিকা অমান্য করার ভূরি ভূরি অভিযোগও ওঠে প্রতি বছর। তবে এ বার মন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের কী করণীয়, তা আরও ভালো করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও এমসিসি অমান্য করা হলে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, তারও বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে।
‘সি–ভিজিল’ অ্যাপ ও কমিশনের কলসেন্টার ১৯৫০–তে দিনের যে কোনও সময়ে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়া পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কমিশনের নির্দেশিকা পালন হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ৫,১৭৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০ স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (এসএসটি) নিয়োগ করেছে কমিশন। ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে এই সব জায়গায় আসা অভিযোগ ১০০ মিনিটের মধ্যে অ্যাটেন্ড করতেই হবে। ফ্লাইং স্কোয়াডকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে কমিশনের বার্তা, কোনও রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে উপযুক্ত নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিকের ব্যবস্থা করা যায়। লাউডস্পিকার ব্যবহার করতে হলে তার জন্যও আলাদা অনুমতি নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলি কোনও মাঠ বা হেলিপ্যাড ব্যবহার করতে চাইলে ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপে ‘সুবিধা’ বলে পোর্টালে আবেদন করতে পারবে। ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে সেই আবেদন মঞ্জুর করতে পারবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সব স্তরের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তার উদ্দেশে কমিশনের বার্তা, নিরপেক্ষ ভাবে এমসিসি কার্যকর করতে হবে। সব দলের প্রতি সমান মনোভাব চলতে হবে। এর অন্যথা হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে।