এই সময়: মরশুমের প্রথম কালবৈশাখী দেখল শহর। সোমবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে আলিপুরে ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার গতিতে এক মিনিটের বেশি সময় ধরে যে ঝোড়ো বাতাস বয়ে গিয়েছিল, তাকে ২০২৬–এর প্রথম কালবৈশাখী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধের পর থেকেই বাতাসের গতি ক্রমশ বাড়তে শুরু করে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের অনেকটা এলাকাতে। একই সঙ্গে জমতে শুরু করে পুরু মেঘের আস্তরণ। রাত ন’টার কাছাকাছি সময়ে হঠাৎই দেখা দেয় বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা। তার পরের ঘটনাক্রম অতি দ্রুত। জোরালো হাওয়ার প্রবাহ বদলে যায় ঝোড়ো হাওয়ায়। তীব্র হয় বৃষ্টির বেগও। রাত সোয়া ন’টা নাগাদ একই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং ঝড়ের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে যান শহরবাসী। যাঁরা রাস্তায় ছিলেন, তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগাপাশতলা ভিজে একশা। কয়েক মিনিটের মধ্যে শহরের তাপমাত্রা অন্তত পাঁচ–ছ’ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে যায়।
আরও কিছুক্ষণ পরে আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়ে দেয়, সোমবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে শহরে বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ৭২ কিমি। এক মিনিটের বেশি সময় ধরে এই গতিতে বাতাস বয়ে যায় শহরে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায়, ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে যদি অন্তত এক মিনিট বাতাস বয়ে যায়, তখন তাকে ‘কালবৈশাখী’ বলা হয়। সোমবার রাতে একই সঙ্গে এই দুই শর্ত পূর্ণ হওয়ায় এ দিনের ঘটনাকে কালবৈশাখী বলেই উল্লেখ করেছেন আবহবিদরা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ২০২৫–এর ১ মে–র পর এই প্রথম অর্থাৎ ৩১৯ দিন পরে কলকাতা কালবৈশাখী পেল। সে দিন আলিপুরে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৯ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল। সোমবার থেকে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দমকা বাতাস এবং বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল হাওয়া অফিস। সেই পূর্বাভাস মিলে যায়।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু অংশে ঝোড়ো বাতাস এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিরও খবর পাওয়া গিয়েছে। মহানগরে জোরালো বাতাসের ঝাপটায় বেশ কিছু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরেই ছোটনাগপুর মালভূমির তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের উপর একটি অক্ষরেখা তৈরি হয়ে সমুদ্রের জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসকে সে দিকে টানছিল। দুই বিপরীতধর্মী বাতাস মিলে গিয়েই এমন কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি করেছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে।
এই দিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের কাছে একটি গাছ উপড়ে যায়। যার জেরে রাজা এসসি মল্লিক রোডের একাংশে যান চলাচল ব্যহত হয়। ময়দান এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় গাছের ডালও ভেঙে পড়ে। গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে বেহালার ডায়মন্ডহারবার রোডে। সেখানে শিলাবৃষ্টিও হয়।