সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
জল্পনা ছিল, ফের কি নিজের পুরোনো কেন্দ্রে দিলীপ! সোমবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে দাঁড়ি পড়ল জল্পনায়। খড়্গপুরে ফের ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে দিলীপ ঘোষ। প্রার্থী হিসেবে এ দিন দলের পক্ষ থেকে দিলীপের নাম ঘোষণার পরেই তাঁর অনুগামীদের উল্লাস শুরু হয়ে যায় খড়্গপুরে। লড়াকু দিলীপকে প্রার্থী করায় তৃণমূলও কিন্তু সাবধানী। খড়গপুরে দলের পতাকা তুলতে তাই নতুন রণকৌশলের ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে তৃণমূলে।
খড়্গপুর সদর বিধানসভা আসন বিজেপিরই দখলে ছিল। বিধায়ক ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, হিরণ মাঝেমধ্যে খড়্গপুরে এসে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেখভাল থেকে সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কর্মসূচিতেও যোগ দিতেন। তবে, দিলীপও খড়গপুর ছাড়েননি। মাঝেমধ্যেই খড়্গপুরে এসে থাকা, চায়ে পে চর্চায় অংশ নেওয়া, রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া-খড়্গপুরের মানুষ জেনেছিলেন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন দিলীপ। মাঝখানে রাজ্য বিজেপিতে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও যখনই রেলশহরে পা দিতেন লোকজন তাঁকে পুরনো মেজাজেই দেখতে পেতেন। সম্প্রতি দলে ফের তাঁর গুরুত্ব বাড়ায় এবং কলকাতায় ব্রিগেডে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহাস্য আলাপচারিতায় দিলীপ অনুগামীদের আশা ছিল, হয়তো তিনিই প্রার্থী হবেন। যদিও হিরণ না দিলীপ শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে দোলাচল ছিল। অবশেষে দিলীপ প্রার্থী হওয়ায় বেজায় খুশি খড়্গপুরের বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলর গানেশ্বর রাও। তিনি বলেন, 'আমরা ভীষণ খুশি। দিলীপদা এখানে এলেই তাঁর নির্দেশমতো নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ব আমরা। দিলীপদাকে সংবর্ধনা জানানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।' খড়্গপুরের প্রবীণ বিজেপি নেতা তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, 'দিলীপদা প্রার্থী হওয়ায় সকলেই খুশি। কারণ, সাধারণ নেতা-কর্মী থেকে ভোটার সকলেই চেয়েছিলেন দিলীপদা প্রার্থী হোন।' কিন্তু জয়ী বিধায়ককে সরিয়ে দিলীপের প্রার্থী হওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়বে না? তুষারের জবাব, 'দিলীপদা রাজ্যের এক জন ফিগার। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।'
২০১৬-য় প্রথম এই বিধানসভা আসনে টানা সাতবারের কংগ্রেস বিধায়ক জ্ঞান সিংহ সোহন পালকে হারিয়ে বিধায়ক হন দিলীপ। ২০১৯-বিধানসভা ছেড়ে মেদিনীপুর লোকসভায় প্রার্থী হন। সেখানেও জয়ী হয়ে সাংসদ হওয়ায় উপনির্বাচন হয় খড়্গপুরে। উপনির্বাচনে বিজেপির প্রেমচাঁদ ঝাঁকে হারিয়ে জয়ী হন তৃণমূলের প্রদীপ সরকার। কিন্তু ২০২১-প্রদীপকে হারিয়ে ফের খড়্গপুর দখল করে বিজেপি। জয়ী হন তারকা প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে কংসাবতী নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। দিলীপের বিয়ে, দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে সস্ত্রীক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়া, ফের দলের মূলস্রোতে ফেরা-এ সব সত্ত্বেও খড়্গপুর ছাড়েননি দিলীপ। সোমবার প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর যেন তারই প্রতিফলন ঘটল।
দিলীপ খড়্গপুরে ফের প্রার্থী হওয়ায় এখানে তৃণমূল এঁটে উঠতে পারবে কি না চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূল এ সবে গুরুত্ব দিতে নারাজ। প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার বলেন, 'বিজেপির কে প্রার্থী সেটা বড় কথা নয়। এ বার খড়্গপুরে ঘাসফুলই ফুটবে।' তিনি জানান, এখানে হিরণ অনুগামীদের সঙ্গে দিলীপ অনুগামীদের বিবাদ রয়েছে। তা ছাড়াও খড়্গপুরের মানুষ বুঝে গিয়েছেন, ওঁরা বাইরের। মাঝে মাঝে পরিযায়ীর মতো আসেন। কোনও উন্নয়ন করেন না। এ বিষয়ে হিরণকে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।