• ‘হিরণের সম্পর্কে ভাবা আমার পক্ষে তো সম্ভব নয়...’, বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেওয়ার প্রশ্নে সপাট জবাব দিলীপের
    এই সময় | ১৭ মার্চ ২০২৬
  • খড়গপুরের গড়ে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) প্রত্যাবর্তন হতেই ‘আউট’ একুশের জয়ী বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। সোমবার বিজেপির প্রকাশিত প্রথম দফার তালিকায় নামই নেই অভিনেতা-রাজনীতিবিদের। ফলে হিরণের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন। বিদায়ী বিধায়ককে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দলের উপর আস্থা রাখার কথা বললেন খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী। তবে অভিনেতা-রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও মন্তব্যে নারাজ তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আবারও আক্রমণ শানালেন তিনি।

    সোমবার বিজেপি প্রার্থী তালিকায় খড়গপুর সদর আসনে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা হতেই দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস। কিন্তু হিরণের বদলে আবার বিজেপি নেতাকে ফেরানোয় প্রশ্ন এ বার হিরণ তা হলে কোথায় টিকিট পাবেন বা আদৌ পাবেন কি? প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ বলেন,‘অনেক বিধায়কের পরিবর্তন হয়েছে। পার্টি ভাবছে। নিশ্চয়ই রাস্তা বেরোবে। কাকে কী কাজে লাগাবে, পার্টি নিশ্চয়ই ভাববে। গত লোকসভা নির্বাচনে নিজের এলাকার বাইরে ঘাটাল লোকসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। । পার্টি যদি একবার ওঁকে নিজের এলাকার বাইরে প্রার্থী করতে পারে! তা হলে পার্টি নিশ্চয়ই ভাবছে। যাঁরা নেতা আছেন, তাঁরা চিন্তা-ভাবনা করবেন। আমার পক্ষে তো ভাবা সম্ভব নয়।’

    এখানেই শেষ নয়, নির্বাচনে টিকিট না পাওয়া মানেই সবকিছু সমাপ্ত নয়, সে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তাও খড়গপুর সদরের বিদায়ী বিধায়ককে দিয়েছেন দিলীপ। পার্টির পুরোনো নেতা রাহুল সিনহার রাজ্যসভায় যাওয়ার উদাহরণ টেনে বিজেপি নেতা বলেন,‘পার্টির উপর ভরসা রাখুন। রাহুলদা (Rahul Sinha) কতদিন পার্টির কোনও পদে ছিলেন না। তিনিও এক সময়ে ক্ষোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু পার্টি তাঁকে সঠিক সময়ে যোগ্য সম্মান দিয়ে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। বহু লোকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। পার্টিতে আপ-ডাউন চলতেই থাকে। সব সময়ে সমান সুযোগ পাওয়া যাবে তা নয়, সবাইকে সুযোগ দিতে হয়। পার্টির আদর্শ এবং নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখা উচিত।’ হিরণকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলীপের

    হিরণের টিকিট না পাওয়ার পিছনে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের বিতর্ক প্রভাব ফেলেছে কি না প্রশ্ন উঠতেই মন্তব্যে নারাজ বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ‘কে কাকে বিয়ে করবে, আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’ তবে কি গত পাঁচ বছরে আসা অভিযোগেই খড়গপুর সদর হাতছাড়া হিরণের? সেটাও মানতে নারাজ দিলীপ। তাঁর মতে, ‘প্রত্যেক নেতার বিরুদ্ধে কোনও না কোনও অভিযোগ থাকে। অভিযোগ শোনার জন্য তো আমি নয়, পার্টির লোক আছে। তাদের কাছে কী অভিযোগ এসেছে, না এসেছে, আমি জানি না। সাধারণ মানুষের কথা শুনতে হয়।’

    খড়গপুর সদর থেকে নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দিলীপ ঘোষ। উল্টে লিড বাড়ানোর লক্ষ্যে এই লড়াই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর দাবি,‘গত কয়েকটি নির্বাচনে খড়্গপুরে আমরা সব সময় লিড পেয়েছি। লোকসভায় প্রায় ৪৫০০০ লিড পেয়েছিলাম ওখান থেকে। বিধানসভায় লিডটা একটু কম থাকে। সুতরাং লিড নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কর্মীরা বলছে, আমরা ওখানে এক লাখ ভোট পাব।’

    এ দিন নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রার্থী হওয়াকে তৃণমূল সুপ্রিমোর উপর ‘রাজনৈতিক চাপ’ সৃষ্টি করা বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসন্তোষ প্রসঙ্গে দিলীপের কটাক্ষ, ‘ওঁর দায়িত্ব যখন প্রশাসন ছিল তখন উনি ছয় মাস অন্তর জামা পাল্টানোর মতো প্রশাসন পাল্টাতেন। অফিসারদের নিয়ে ফুটবল খেলতেন। কেন ভাবছেন সব কিছু ওঁর মতো চলবে। নির্বাচন কমিশন দেখেছেন এই অফিসারেরা SIR-এ সহযোগিতা করেননি।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রাণহানির আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন দিলীপ। তাঁর কথায়,‘যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশমন্ত্রী, তাঁর নিজের বাড়িতেই লোক ধাক্কা মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তাঁর জীবনে যে সঙ্কট অন্য জায়গায় নয়, নিজের বাড়িতে, নিজের পার্টিতে আছে। এইসব বলে হয়তো মাইলেজ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।’ ভোট ঘোষণার কয়েক মুহূর্ত আগে ডিএ ঘোষণা করেও কোনও সুবিধা পাবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো বলে দাবি দিলীপের।

  • Link to this news (এই সময়)