• মমতার মাস্টারস্ট্রোক! তুরুপের তাস সংখ্যালঘু নাকি নারীশক্তি? প্রার্থী তালিকায় নবীনে বেশি জোর না প্রবীণে?
    এই সময় | ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। সোমবার বাম-BJP-র পরে মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ। আর প্রার্থী তালিকায় এবারও জোর দেওয়া হয়েছে নারীশক্তি, অনগ্রসর শ্রেণি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যের উপরে।

    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বরাবরই মহিলাদের সংখ্যা বেশি থাকে। মোদী সরকার লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩% মহিলা আসন সংরক্ষণের জন্য ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ পাস করালেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

    খাতায়-কলমে কোনও মহিলা সংরক্ষিত আসন না থাকলেও, তৃণমূল এ বার ৫২ জন মহিলা প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছে। ২০২১-এ তৃণমূেল প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের সংখ্যা ছিল ৫০ জন। অর্থাৎ, মহিলাদের প্রতি তাদের তৃণমূলের বিশেষ ফোকাস আরও একবার ধরা পড়ল তাদের প্রার্থী তালিকায়।

    ২০২১ সালে ৪২ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই বছর সামান্য বেড়েছে সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা, ৪৭ জন।

    নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি আসন তফসিলি জাতি-উপজাতির (৬৮টি এসসি, ১৬টি এসটি) জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের দল এবার ৯৫ জন এসসি-এসটি (৭৮ জন এসসি, ১৭ জন এসটি) প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছে, যা সংরক্ষিত আসনের চেয়েও বেশি।

    ২০২১-এও ৯৬ জন এসসি-এসটি (এসসি: ৭৯ জন, এসটি: ১৭ জন) প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতেই এই মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    শুধু তাই নয়, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যও রাখা হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সি ১২৬ জন জন (প্রায় ৪৪%) প্রার্থী রয়েছেন। ৩১ বছরের নীচে বয়স এমন প্রার্থীও আছেন ৪ জন। আবার ৮১-৯০ বছর বয়সি ২ জন প্রার্থীও আছেন।

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমাদের দল একমাত্র দল যাদের তিনটি জেনারেশন তৈরি।’ তিনি জানিয়েছেন, প্রার্থী তালিয়ায় তাঁরা সব জগতের সমান প্রতিনিধিত্ব রাখতে চেয়েছেন, সমাজের সকল অংশকে সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। দেবাংশু ভট্টাচার্যর মতো ছাত্র-যুব আন্দোলনের পরিচিত মুখের পাশাপাশি ক্রীড়াজগৎ থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছেন বিদেশ বসুকে। বাদ যাননি সংস্কৃতি জগতের মানুষরাও।সব মিলিয়ে নবীন-প্রবীণ এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ছাব্বিশের ময়দানে কড়া লড়াইয়ের বার্তা দিল রাজ্যের শাসক দল।

  • Link to this news (এই সময়)