২০২২-এ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে ছিল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। সেই অভিযোগ পিছনে ফেলে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে মেখলিগঞ্জ আসনে ২১-এর জয়ী প্রার্থী পরেশ অধিকারীর উপরেই আস্থা রাখল তৃণমূলের হাইকমান্ড। তবে জোড়াফুলের প্রার্থী তালিকায় অন্যতম চমক হলো, এ বারে জায়গায় পেলেন না ১৮ বছরের তৃণমূলের কংগ্রেসের জেলা সভাপতি এবং প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। হেভিওয়েট এই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ২৬-এর ভোটে প্রার্থী করল জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শৈলেন বর্মাকে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পরেশচন্দ্র অধিকারীর নাম জড়ালেও এ ক্ষেত্রে সেখানে তৃণমূল এ বারও পরেশের উপরই বাজি রেখেছে। ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোয় পরেশ অধিকারীর নাম জড়ানোয় সিবিআই-ইডি তলবের মুখোমুখি হন তিনি। বেআইনি ভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে ওঠে তৎকালীন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক মেয়ে অঙ্কিতার বিরুদ্ধে। নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়তে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরিও চলে যায় তাঁর। সে সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল উঠলেও হাইকমান্ডের তরফে কোনও মন্তব্যই সামনে আসেনি। তবে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পরেশ অধিকারীর নামেও চার্জশিট পেশ করেছিল সিবিআই। কিন্তু মঙ্গলে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে এসবই অতীত।
অন্য দিকে, মাথাভাঙা কেন্দ্রে গত বছর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিল দলের বর্তমান কোচবিহারের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। তাঁর পরিবর্তে সেখানে অধ্যাপক তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবলু বর্মনকে প্রার্থী করা হয়েছে। কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে পার্থপ্রতিম রায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি দলের প্রাক্তন সাংসদ। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককে প্রার্থী করা হয়েছে। দিনহাটা কেন্দ্রে প্রার্থী মন্ত্রী উদয়ন গুহ। এ ছাড়াও সিতাইতে বর্তমান বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কেই প্রার্থী করা হয়েছে। শীতলখুচি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায়ের ছায়াসঙ্গী হরিহর দাসকে। তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পালকে।