কালীঘাট থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চাঞ্চল্য বাঁকুড়ায়। ১২ আসনের মধ্যে নয়টি কেন্দ্রেই বদলে গিয়েছে প্রার্থী। মন্ত্রী থেকে একাধিকবার বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দিয়ে নতুন মুখে বাজি ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলে যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট পেলেন বেশ কয়েকজন। তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক, ব্যবসায়ী থেকে অধ্যাপিকাও। বাদ গেলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী থেকে বিদায়ী একাধিক বিধায়ক।
বাঁকুড়ার লাল মাটিতে জোড়াফুল ফোটাতে এ বার দলবদলুদের নিয়ে ঘুঁটি সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই স্ট্র্যাটেজিতেই বাদ পড়েছেন বাঁকুড়ার অতীতে জিতে আসা বিধায়ককেরা। এমনকি ২৬-এ এই জেলায় কিস্তিমাতের অঙ্কে দু’বারের বিধায়ক, ‘বিদায়ী’ মন্ত্রীকে টিকিটই দিল না শাসক দল। বাঁকুড়া জেলার একমাত্র মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির নামই নেই তালিকায়। তাঁর বদলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দলে যোগদানকারী তনুশ্রী হাঁসদাকে রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার সকালেই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে জোড়াফুলের পতাকা তুলে নেন তিনি।
২১-এ তৃণমূলের টিকিটে জয়লাভ করেও ২৬-এর তালিকায় বাদ পড়েছেন আরও তিন বিধায়ক। বাদ পড়েছে রায়পুরের বিধায়ক মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু ও বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়ের নাম। ২০২১ এর নির্বাচনে সিপিএমের হাত থেকে বড়জোড়া আসন ছিনিয়ে নিয়েও এ বার টিকিট পেলেন না অলোক মুখোপাধ্যায়। তাঁর বদলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা ব্যবসায়ী গৌতম মিশ্র ওরফে শ্যামের উপরেই আস্থা রাখল শাসক দল। তবে দলবদলু দুই বিধায়ককেও এ বছর প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
রাইপুরের বর্তমান বিধায়ক মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুর বদলে এ বারে টিকিট পেয়েছেন ঠাকুরমণি সরেন। অন্যদিকে, বাঁকুড়া কেন্দ্র দখলে নিতে কোন রাজনীতির চেনা মুখ নয়, বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডঃ অনুপ মণ্ডলকে তড়িঘড়ি দলে যোগদান করিয়ে তাঁকেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এ ছাড়াও ইন্দাসের প্রার্থী শ্যামলী বাগদি, সোনামুখীর ডঃ কল্লোল সাহা রাজনৈতিক জগতে তেমন পরিচিত নাম নয়। তবুই আঞ্চলিক মন জয়ের কথা মাথায় রেখে এই প্রার্থীদের উপরেই বাজি তৃণমূলের। নতুন মুখের তালিকায় রয়েছে শালতোড়ায় উত্তম বাউরি ও ছাতনায় স্বপন কুমার মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১২ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল জঙ্গলমহলের তিনটি আসনে— রানীবাঁধ, রায়পুর ও তালড্যাংরা এবং বড়জোড়া বিধানসভা। বাকি আটটি কেন্দ্রে যায় বিজেপির ঝুলিতে। তবে পরবর্তী সময়ে বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়করা তৃণমূলে যোগদান করে। তালড্যাংরা বিধায়ক লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ নির্বাচিত হলে ঐ আসনটি উপনির্বাচনে জিতে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে বাদ পড়ে বড়জোড়া বিদায়ী বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায় বলেন,‘দল টিকিট দিল না কোনও অসুবিধা নেই। দল টিকিট দিয়েছিল, মানুষের কাজ করেছি। মানুষের কাজ করে যাব। দল যাঁকে টিকিট দিয়েছে আমি তাঁকে জেতাব। মূল শত্রু হচ্ছে CPI(M) ও বিজেপি। লড়াইয়ে আছি, লড়াইয়ে থাকব।’ তবে জ্যোৎস্না মান্ডিকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বাঁকুড়ার সাংসদ তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন,‘এটা দলের সিদ্ধান্ত, যারা ভালো কাজ করবে তারা টিকিট পাবে। মানুষকে পরিষেবা তো দিতে হবে। দল বুঝেছেন, তাই নতুনদের নিয়ে এসেছে।’ সব মিলিয়ে বাঁকুড়ায় ১২-এ ১২ করতে নয়া স্ট্র্যাটেজি জোড়াফুল শিবিরের।