বিভাস ভট্টাচার্য: নবীন, প্রবীণের মিশ্রণ। প্রয়োজনমতো 'ঘ্যাচাং ফুঁ'। প্রতিটি স্তরেই মাপা পদক্ষেপ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় একদিকে যেমন দাম দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতার তেমনি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তারুণ্যকে। আরেকটি বড় বিষয় হল অকারণে সেলিব্রিটিদের ভিড়ও এই প্রার্থী তালিকায় নেই। আবার এই তালিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশ্নও।
অথচ তালিকা প্রকাশের আগে তৈরি হয়েছিল নানারকম জল্পনা। শোনা যাচ্ছিল বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটির নাম। কিন্তু মঙ্গলবার বেলা তিনটের পর থেকে সময় যতই গড়িয়েছে ততই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে চিত্রটা। দেখা গিয়েছে, নবীন-প্রবীণের মিশ্রণে সেলিব্রিটিরা অবশ্যই জায়গা পেয়েছেন। কিন্তু সেখানে কোনো আতিশয্য নেই।
এই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে আরেকটি যে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল সেটা হল এবারের নির্বাচনে কতজন প্রবীণ নেতা টিকিট পাবেন? এমন কথাও শোনা গিয়েছিল দলের অধিকাংশ প্রবীণ নেতাই এবার তরুণদের দাপটে আর টিকিট পাচ্ছেন না। সেই ধারণাও কিন্তু ভুল বলেই প্রমাণিত হয়েছে। দলে দীর্ঘদিনের সৈনিকদের অধিকাংশই টিকিট পেয়েছেন। অল্প কয়েকজন অবশ্যই বাদ গিয়েছেন।
এর পাশাপাশি আরও যে বিষয়টি নজরে এসেছে সেটা হল দলে পুরনো কিন্তু সেভাবে কাজ না করা কয়েকজন নেতাকে ছেঁটে ফেলা। এর পাশাপাশি আগের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রীকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে দ্বিধা করেনি তৃণমূল। যার উদাহরণ, মালদার কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। ফলে এই তালিকা এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় সেলিব্রিটি বর্জিত ঝকঝকে নবীন ও প্রবীণের মিশ্রণে তৈরি এক নতুন দল। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও দলের সেনাপতি অভিষেক ব্যানার্জিকে সামনে রেখে যে দল এবার ঝাঁপাতে চলেছে চতুর্থবার সরকার গঠনের লক্ষ্যে।
কিন্তু প্রশ্নও উঠেছে। দু'দিন আগে দলে যোগদান করে বা সকালে যোগদান করে বিকেলেই প্রার্থী তালিকায় কীভাবে নাম ওঠে? এই প্রশ্নটা কিন্তু এসেছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের থেকেই। যেমন উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী খেলোয়াড় স্বপ্না বর্মন বা তুফানগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী খেলোয়াড় শিবশঙ্কর পালকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেটা সঙ্গত। স্থানীয় যে তৃণমূল নেতা বা কর্মীরা গত পাঁচ বছর ধরে দলটা করে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে এই প্রশ্নটা আসা একেবারেই অবাস্তব নয়, তাহলে আমরা দল করছি কেন?