• ভবানীপুরে 'প্রেস্টিজ ফাইট', নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের কি আবারও পুনরাবৃত্তি?
    আজ তক | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে লাইমলাইটে ভবানীপুর কেন্দ্র। কারণ, এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। এবারও ফের মুখোমুখি দুজনে। মমতা চাইবেন অতীতের রেকর্ড মুছে ফেলতে। শুভেন্দুর লক্ষ্য থাকবে, সাফল্য ধরে রাখা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই কারণেই এটি হট সিট।   

    রাজনৈতিক মহলের আরও দাবি, গতবার নন্দীগ্রামে হারার পর এই আসন থেকেই উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা। তাই এই সিট ধরে রাখা তাঁর কাছে মুখরক্ষার লড়াই। অন্যদিকে শুভেন্দু নন্দীগ্রামে জেতার পর থেকে উঠতে বসতে মমতাকে হারানোর হুঙ্কার দিয়েছেন। সেই দিক থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াই তাঁর কাছেও প্রেস্টিজ ফাইট। তবে শুভেন্দু কি পারবেন মমতাকে চ্য়ালেঞ্জ ছুড়তে? 

    বিজেপির কাছে আশার বিষয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা অংশে তৃণমূলের লিড কমেছিল। মাত্র ৮,২৯৭ ভোটে এগিয়েছিলেন তণমূলের প্রার্থী। সেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্যবধান ছিল ২৮ হাজারেরও বেশি।

    ‘The Telegraph’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ লোকসভা ভোটে ভবানীপুরের ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টিতে বিজেপি এগিয়ে ছিল। আবার কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতেও বিজেপি লিড পায়। আবার ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূল এই কেন্দ্রে ধাক্কা খায়। সেবার বিজেপির থেকে ১৮৫ ভোটে পিছিয়ে পড়েছিলেন ঘাসফুল প্রার্থী। যদিও ২০১১ সালের পর থেকে হওয়া সব নির্বাচন, যেমন তিনটি বিধানসভা, তিনটি লোকসভা এবং দুটি উপনির্বাচন—পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি।

    এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ বাঙালি, অপর ৪০ শতাংশ গুজরাতি, মাড়োয়ারি, বিহারি, শিখ এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের। মুসলিম ভোটার প্রায় ২০ শতাংশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবার এই আসনে জয়ী হয়েছেন। ২০১১ ও ২০২১ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। দুই উপনির্বাচনেই তিনি ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে বিপুল জয় পেয়েছেন।

    গত ১৫ বছরে হওয়া ৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই তৃণমূল জয়ী হয়েছে বা এগিয়ে ছিল এই আসন থেকে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। উপনির্বাচনের বড় জয়ের পাশাপাশি ২০১১ সালে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল জয়লাভ করে। তবে ২০১৬ সালে এই ভোটের হার ৪৮ শতাংশের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে, তিনটি লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটের হার কমার প্রবণতা দেখা গেছে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯১ সাল থেকে একাধিকবার দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকেও নির্বাচিত হয়েছেন, যার অন্তর্গত এই ভবানীপুর কেন্দ্র।

    ভবানীপুরের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, একসময় এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালে এই আসন থেকে জয়ী হন।

    ১৯৬৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই নামে কেন্দ্রটির অস্তিত্ব ছিল না। ২০০৮ সালের ডিলিমিটেশনের পর ভবানীপুর নতুনভাবে গঠিত হয় এবং এরপর থেকে প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীই জয়ী হয়ে আসছেন।

    ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ তৃণমূলের দিকে সরে যায় বলেই মনে করা হয়।

    ২০২৬ সালে কি এই আসনে পরিবর্তন দেখা যাবে? বিজেপি যেখানে অ-বাঙালি ভোটব্যাঙ্কে ভর করে নিজেদের শক্তিশালী করতে চাইছে, সেখানে তৃণমূল ২০২১ সালের উপনির্বাচনের ফল পুনরাবৃত্তির আশায় রয়েছে। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ভবানীপুর থেকেই লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই কেন্দ্রটি এবার হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। 
  • Link to this news (আজ তক)