• দুর্নীতির ছায়ায় টিকিটহীন পার্থ, তালিকায় নেই মানিকও, তৃণমূলের নতুন মুখ ভোটের ময়দানে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির ‘কিংপিন’ তকমাও জুড়েছে তাঁর নামের সঙ্গে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মন্ত্রীসভা থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়।পাশাপাশি তাঁকে দল থেকেও ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়, যে পরিস্থিতি এখনও বহাল রয়েছে। প্রায় তিন বছর জেল খাটার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত হলেও দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশ আগেই মনে করছিল, এই পরিস্থিতিতে তাঁকে আর প্রার্থী করা হবে না।শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল। ২০০১ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সে সময় একটি বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে বেহালা পশ্চিম থেকে নির্বাচনে লড়ে  সিপিএম নেতা নির্মল মুখোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন তিনি। ২০০৬ সালের কঠিন নির্বাচনী পরিস্থিতিতেও তিনি জয়ী হন এবং পরে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পান। এরপর ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১, টানা তিন দফাতে একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।

    তবে এবার দুর্নীতির অভিযোগই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলল বলে মনে করা হচ্ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় এবার প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।একইভাবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের নামও বাদ পড়েছে এবং তাঁর জায়গায় প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রুকবানুর রহমান। রেশন দুর্নীতি মামলায় জড়িত জীবনকৃষ্ণ সাহা বর্তমানে জেলে রয়েছেন এবং মুর্শিদাবাদের বড়ঞা আসনে তাঁর জায়গায় প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন নতুন মুখ প্রতিমা রজক।

    অন্যদিকে প্রার্থী আনিসুর রহমান, রেশন দুর্নীতি মামলায় যার নাম জড়িয়েছিল এবং যিনি সেই কারণে জেলও খেটেছিলেন, তিনি আবার দেগঙ্গা আসনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রেশন দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর বর্তমানে  জামিনে মুক্ত। তিনি এবার আবার হাবড়া আসনে টিকিট পেয়েছেন।  এদিকে ২০২২ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়  অভিযুক্ত পরেশ অধিকারী মেখলিগঞ্জ আসনে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে টিকিট পেয়েছেন। তবে তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী চাকরি হারিয়েছেন বেআইনি নিয়োগের কারণে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)