তামান্নার মায়ের প্রার্থী পদ নিয়ে সিপিএমে গোষ্ঠীকোন্দল
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ মার্চ ২০২৬
২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয় ৯ বছরের তামান্না খাতুনের। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। মেয়ের মৃত্যুর শোকে সাবিনা ইয়াসমিন পরবর্তীতে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানা যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে সেই সাবিনাকেই প্রার্থী করে বামফ্রন্ট। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘কালীগঞ্জে প্রার্থী হচ্ছেন এক শহিদ কন্যার মাতা, সাবিনা ইয়াসমিন।’ কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন দলের স্থানীয় কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সাবিনা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখেন না।
এই অসন্তোষ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসে। এদিন সকালে সিপিএম কর্মীরাই দলীয় কার্যালয়ে চড়াও হন। তাঁদের দাবি, সাবিনাকে সরিয়ে অন্য কাউকে প্রার্থী করতে হবে। দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন এবং নথিপত্র নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। যদিও সিপিএমের তরফে গোষ্ঠীকোন্দলের কথা স্বীকার করা হয়নি। এই ঘটনার পর সাবিনা ইয়াসমিন দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের সমর্থনেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। দলের অধিকাংশ কর্মী তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিরোধীদের প্ররোচনায় কিছু অশান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমানের কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘যে দল সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে, তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বেরও কোনও রাজনৈতিক প্রভাব নেই।’
যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে বাম শিবিরে অস্বস্তি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।