সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দেওয়াল লিখন ও পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু করেছে। ভোটের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন সরব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলেও তারা জানিয়েছে। যদিও এনিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা কাঙ্খিত নয়। এমন হয়ে থাকলে তা মুছে ফেলা হবে।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার ক্যাম্পাসকে ‘গৈরিকীকরণ’-এর অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছে। সম্প্রতি দেখা যায়, বিশ্বভারতীর শিক্ষাভবন, বিনয় ভবন, পূর্বপল্লি সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে এবিভিপির সমর্থনে দেওয়াল লিখন করা হয়েছে। কোথাও আবার ছাত্রদের এবিভিপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিশ্বভারতীর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ দে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা ও আদর্শে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেই জায়গায় কোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখন বা পতাকা লাগানো আমরা সমর্থন করি না। এই বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। অন্যদিকে, এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সৌভিক দাসবক্সী বলেন, ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্য ছাত্র সংগঠন দেওয়াল লিখন করলে তা দ্রুত মুছে ফেলা হয়, কিন্তু আরএসএসের ছাত্র সংগঠনের ক্ষেত্রে সেই কড়াকড়ি দেখা যায় না। তাই গৈরিকীকরণের প্রমাণ এই ঘটনায় আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়ে এবিভিপির বিশ্বভারতী ইউনিটের সভাপতির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর সঙ্গে গৈরিকীকরণের কোনো সম্পর্ক নেই।