খড়্গপুরে (Kharagpur) এ বার দুই প্রাক্তন বিধায়কের লড়াই। দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) নাম সোমবারই ঘোষণা করে দিয়েছিল বিজেপি। নিজের ‘গড়’ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তার পর থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবার খড়্গপুরের ‘ঘরের ছেলে’ প্রদীপ সরকার (Pradip Sarkar) ওরফে খোকনকে প্রার্থী করল তৃণমূল। আর প্রার্থী হয়েই বিজেপিকে তোপ দেগে বলে দিলেন, ‘দিলীপ কোনও ফ্যাক্টরই নয়।’
উনিশের উপনির্বাচনে খড়্গপুর সদর থেকে বিজেপির প্রেমচাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান প্রদীপ। দিলীপ ঘনিষ্ঠ প্রেমচাঁদকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে দেন। ২১-এর ভোটে অভিনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ৩৮০০ ভোটে হেরে যান। এ বার ফের তাঁকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
অন্য দিকে ২০১৬ সালে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে দাঁড়ান দিলীপ। হারিয়ে দেন প্রবীণ নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ‘অজাতশত্রু’ বিধায়ক জ্ঞান সিং সোহনপালকে। এখানেই শেষ নয়। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতা মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেদিনীপুরের সাংসদও নির্বাচিত হন। আর ২০২১-এর বিধানসভায় আর প্রার্থী হলেন না সাংসদ দিলীপ। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে। মেদিনীপুরে উড়িয়ে আনা হয় অগ্নিমিত্রা পালকে। দুটো আসনই হাতছাড়া হয় বিজেপির। বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ হেরে যান।
এ বার তাই দুই প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ আর প্রদীপের লড়াই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রদীপের লড়াইটা সহজ হবে না। যদিও ভোটের আগে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেলায় উড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সরাসরি বলে দিলেন, ‘দিলীপ ঘোষ কোনও ফ্যাক্টরই নয়। উনি বিধায়ক, সাংসদ ছিলেন। কিন্তু খড়্গপুরের জন্য কি করেছেন? উন্নয়ন আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই করেছেন।’ খড়্গপুর নিজের ঘরের ছেলেকেই চায় বলেও ভোটের সুর বেঁধে দেন তিনি।
তবে এখনও খড়্গপুরে পৌঁছতে পারেননি দিলীপ। বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনি চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তাঁর সাউথ সাইডের 'রেল বাংলো' সাজিয়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে। বাংলোর সামনেই হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে, ‘দিলীপদা ছিলেন, আছেন, থাকবেন।’ মঙ্গলবার বিকেলে প্রদীপের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেননি দিলীপ। শুধু বলেছেন, ‘তৃণমূল তাদের মতো প্রার্থী করেছে। খড়্গপুরের মানুষ বিজেপির সঙ্গেই আছে।’