• শহরে ৭২ কিলোমিটার বেগে ঝড়, সঙ্গী লাগাতার বজ্রপাত-শিলাবৃষ্টিও! প্রথম কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি
    বর্তমান | ১৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেলের পর থেকে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার। আর তার জেরে সন্ধ্যায় মরশুমের প্রথম কালবৈশাখীর সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা ও শহরতলির একাধিক জেলা। ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার বেগে বইল ঝড়। সঙ্গী মুহুর্মুহু বজ্রপাত। একইসঙ্গে চলল নাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি। দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে এক ধাক্কায় রাতের তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায় বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর। ঝোড়ো হাওয়ার জেরে কলকাতা, হাওড়ার একাধিক জায়গায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। আলিপুর মিউজিয়ামের কাছে চলন্ত বাইকের উপর গাছ পড়ে দুজন আহত হয়েছেন। রাতের দিকে বৃষ্টি থামলে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে দেয় প্রশাসন।
    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, এদিন প্রাথমিকভাবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। বিকেলের পর থেকে বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই মেঘ সরে আসে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনায় বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে খাস কলকাতায় বাড়তে থাকে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল হাওয়ার দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে যায় শহর থেকে শহরতলি। দরজা-জানালা বন্ধ করতে গিয়ে নাকাল হয়েছেন মানুষ। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির বারান্দায়, ছাদে রাখা টব উলটে যায়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, হাওয়ার বেগ প্রায় ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। শহরে বেহালা, যাদবপুর, রেড রোড সহ আটটি জায়গায় গাছ পড়েছে। বারাকপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ঝড়-বৃষ্টির খবর মিলেছে।

    হাওড়া গ্রামীণের একাধিক জায়গায় গাছ উপড়ে গিয়েছে। আমতার আমরাগড়িতে গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রাই গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করেন। রাত নটা বাজতেই হাওড়া শহরজুড়ে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। আচমকা বৃষ্টিতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আধ ঘন্টার বৃষ্টিতে মধ্য হাওড়া ও শিবপুরের বেশ কিছু অংশে জল জমে যায়।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, কুলতলি, রায়দিঘি, জয়নগর, মন্দির বাজারেও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘনঘন বজ্রপাত হয়েছে। কাকদ্বীপে ঝড় শুরু হতেই আট নম্বর লট থেকে কচুবেড়িয়া যাওয়ার ভেসেল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গঙ্গাসাগরে যাওয়ার মুড়িগঙ্গা নদীর ভেসেল চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। ক্যানিং, বাসন্তী সহ সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তেও ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। তাতে একাধিক ফেরিঘাটে নৌকা চলাচল সাময়িক বন্ধ করতে হয়।

    তারাতলা, বেহালা, যাদবপুর, সন্তোষপুর সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। মরশুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি। আনন্দে সেই শিলা হাতে নিয়ে অনেকেই ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
  • Link to this news (বর্তমান)