এক জন ‘কিং’। অন্য জন ‘কিং মেকার’
প্রথম জন মানসরঞ্জন ভুঁইয়া (Manas Bhunia)। আর দ্বিতীয় জন অমল পণ্ডা।
মানস ভুঁইয়া আট বারের বিধায়ক। প্রথমে কংগ্রেসের, পরে তৃণমূল কংগ্রেসের। আর এত দিন তাঁর ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন অমল পণ্ডা। তিনি মানস ভুঁইয়ার ‘ভোট ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং বিশ্লেষকদের মতে, মানস ভুঁইয়ার জেতার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল অমল পণ্ডার।
কিছু দিন আগেই শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) হাত ধরে হাত ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন অমল পণ্ডা। সবং আসনে তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি (BJP)। আর এই আসনেই ফের প্রার্থী করা হয়েছে মানস ভুঁইয়াকে। ফলে একদা ‘ছায়াসঙ্গী’র বিরুদ্ধে লড়তে হবে তাঁকে।
অনেকের মতে অমল পণ্ডা প্রার্থী হওয়ায় শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মানস ভুঁইয়াকে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সবং (Sabang) ব্লক সভাপতি আবু কালাম বক্সের দাবি, লড়াই মোটেই কঠিন নয়। সবংয়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তার উপর নির্ভর করেই রেকর্ড ভোটে জিতবেন মানস ভুঁইয়া।
১৯৮২ সাল থেকে এক টানা বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। বাম আমলেও সবং শক্ত হাতে আগলে রেখেছিলেন তিনি। সেই সময়ে কংগ্রেসেই ছিলেন মানস ভুঁইয়া। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। তবে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) যোগ দেন মানস।
সবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অমল পণ্ডাও মানসের সঙ্গে চলে আসেন তৃণমূলে। তবে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পরে নাম না করে মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সবংয়ে ব্যক্তির উন্নয়ন হয়েছে। সামগ্রিক উন্নয়ন হয়নি। সবংয়ে বাম আমলের থেকেও বেশি সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। সবংয়ের মানুষ এবার মুক্তি চাইছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে অতীত-সম্পর্ক এই ভোটে প্রভাব ফেলবেনা বলেও দাবি তাঁর।
অন্য দিকে, প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পরেই কলকাতা থেকে ফিসে এসেছেন মানস ভুঁইয়া। তেমাথানি আসতেই সবুজ আবির উড়িয়ে, আতসবাজি ফাটিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন দলের কর্মীরা। এর পরেই দেভোগ, দশগ্রাম অঞ্চলের বতুয়া বাজার-সহ তিনটি জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কর্মী সভা করেন মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ সবংয়ের কী উন্নয়ন হয়েছে, আমি নিজে মুখে বলবনা। সবংবাসী জানেন। সবংয়ের আরও উন্নয়ন হবে।’
এ বারেও জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত তিনি।