• কমিশনের কোপে ১৩ SP, বদলি ৪ CP-ও, কড়া আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বদলি পর্বের শুরুটা হয়েছিল বাংলায় নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার সাত ঘণ্টার মধ্যে। সেই বদলির ধারা অব্যাহত ৩৬ ঘণ্টা পরেও। বাংলায় বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে এ বার রাজ্য পুলিশে একঝাঁক রদবদল। এর মধ্যে বিভিন্ন জেলার এসপি পদে ১৩ জন অফিসারকে মঙ্গলবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজ্য পুলিশের চারটি কমিশনারেটের সিপি–সহ ছ’জন সিনিয়র অফিসারকেও সরিয়ে দিয়ে তাঁদের জায়গায় নতুন অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। ভোট ঘোষণার পরে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস থেকে শুরু করে মহকুমা, ব্লক ও থানা স্তরের অফিসারদের বদলি নতুন কিছু নয়। তবে এ বার যে গতিতে পুলিশ–প্রশাসনের অফিসারদের রদবদল শুরু করেছে কমিশন, তা কার্যত বেনজির বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। শুধু তাই নয়, এ বারের ভোটে আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পরে প্রথম দিনই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে। স্বরাষ্ট্রসচিব মিনাকে আবার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে। একটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রের আমলাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর রেওয়াজ নতুন নয়। তবে স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো সিনিয়র আমলাকে পদ থেকে অপসারণ করে অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর ঘটনাও নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

    ভোট ঘোষণার পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব–স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজিপি, কলকাতা পুলিশের সিপি–সহ একঝাঁক সিনিয়র আমলা–পুলিশকর্তাকে বদল করার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে সোমবারই চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তাঁর যুক্তি ছিল, এমন একপাক্ষিক ভাবে রদবদল সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী। অন্য বার অফিসারদের সরানোর আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে তিন জন বিকল্প নাম তৈরি করে সেখান থেকে একজনকে বেছে নিত কমিশন। এ বার সেটা হয়নি। পাশাপাশি তৃণমূলের মিছিল শেষে সভা থেকেও এই ইস্যুতে নিশানা করেছিলেন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার দিন, মঙ্গলবার ফের কমিশনকে আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, ‘(বিজেপি) জিততে পারবে না বুঝে, পার্টি অফিসে বসে সব বদলে দিচ্ছেন।’ মমতার কথায়, ‘এখনও নোটিফিকেশন হয়নি, এখন কোনও বিপর্যয় হলে কে দেখবে? এখন কিছু হলে বিজেপি, কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আইন–শৃঙ্খলার সমস্যা হলেও দায়িত্ব নিতে হবে কমিশন-বিজেপিকে। সব বাঙালি অফিসারকে বদলে দিয়েছেন। বিনীতের (গোয়েল) মতো অফিসারদের বদলে দিয়েছেন। ইদের আগে কেন সরালেন? দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা আছে? সুপার ইমার্জেন্সি করে চার মাস ধরে সরকার দখল করেছেন।’

    সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠি ও রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যার পরেও কমিশন যে তার অবস্থান থেকে সরেনি, তা স্পষ্ট এ দিন ফের কমিশন একলপ্তে ১৯ জন সিনিয়র অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ায়। যে অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে চারটি কমিশনারেটের সিপিও রয়েছেন। আসানসোল–দুর্গাপুরের নতুন কমিশনার করা হয়েছে প্রণব কুমার, হাওড়ায় অখিলেশ চতুর্বেদী, ব্যারাকপুরে অমিতকুমার সিং এবং চন্দননগরে সুনীলকুমার যাদব রয়েছেন। এ ছাড়া এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) হিসেবে রাজেশকুমার সিং এবং এডিজি (উত্তরবঙ্গ) কে জয়রামনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে জেলাগুলিতে এসপি পদে বদল করা হয়েছে সেগুলি হলো— বারাসত, ইসলামপুর, ডায়মন্ড হারবার, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর, বসিরহাট পুলিশ জেলা এবং কোচবিহার, বীরভূম, হুগলি গ্রামীণ, মালদা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর। বদলি করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসিকেও (সেন্ট্রাল)। যে জেলাগুলিতে এসপিদের সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোচবিহার, ডায়মন্ড হারবার, দুই মেদিনীপুরের এসপিদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী বিজেপি। আবার আরজি কর আন্দোলনের সময়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। এই সব ঘটনাক্রমের সঙ্গে এ দিনের অফিসারদের বদলির যোগ খুঁজছেন পুলিশ–প্রসাসনের কর্তাদের একাংশ।

  • Link to this news (এই সময়)