• ৪৭৮ অবজ়ার্ভারের লেন্সে নজরবন্দি বঙ্গের নির্বাচন
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: অবজ়ার্ভারের নজরদারিতেও ব্যতিক্রমী বাংলা!

    পশ্চিমবঙ্গ–সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ বার একসঙ্গে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ, পুলিশ ও এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভারের তালিকা সোমবারই প্রকাশ করেছে দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী ভাবে শুধু বাংলাতেই ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ অবজ়ার্ভার এবং ১০০ জন এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার। সব মিলিয়ে বাংলায় দায়িত্ব পাচ্ছেন ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক।

    সেই তুলনায় অসমে ১২৬ সিটের জন্য ৫১ জেনারেল, ৩৫ পুলিশ, ৫০ এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার, তামিলনাড়ুর ২৩৪ সিটের জন্য ১৩৬ জেনারেল, ৪০ পুলিশ, ১৫১ এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার এবং কেরালায় ১৪০ সিটের জন্য ৫১ জেনারেল, ১৭ পুলিশ, ৪০ এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে।

    তাৎপর্যপূর্ণ হলো, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনার প্রতি তিন থেকে চার বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে পুলিশ অবজ়ার্ভার থাকবেন। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকছেন তিন জন এবং দক্ষিণ কলকাতা চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য দেওয়া হয়েছে এক জন পুলিশ অবজ়ার্ভার। ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও আজ বুধবার থেকেই কমিশন তাঁদের কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

    প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে এক জন করে সাধারণ অবজ়ার্ভার রাখা এবং তাঁদের এত আগে থেকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা বাংলায় নজিরবিহীন। এ ছাড়াও ভোটের খরচ নজরদারি করতে থাকছেন ১০০ জন এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার। সবচেয়ে বেশি পুলিশ অবজ়ার্ভার (১১) নিয়োগ করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। এরপরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে ছ’জন পুলিশ অবজ়ার্ভার থাকছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলিতে ৫ জন করে, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে চার জন করে পুলিশ অবজ়ার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। মালদায় ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকবেন তিন জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। কমিশন ভোটে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আইএএস আধিকারিকদের অবজ়ার্ভার পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু করেছে ২০০১ থেকেই। পরবর্তী কালে বিরোধীদের দাবি মেনে ভিন রাজ্যের আইপিএস অফিসারদের পুলিশ অবজ়ার্ভার এবং রেভিনিউ অফিসারদের ভোটের খরচ দেখার জন্য এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভার হিসেবে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চালু করে।

    কমিশনের বক্তব্য, বাংলায় হিংসামুক্ত, রক্তপাতহীন, স্বচ্ছ ভোট করাই লক্ষ্য। তাই অতীতে ভোটের হিংসা যেখানে বেশি হয়েছে এবং স্পর্শকাতর অশান্তিপ্রবণ জেলাগুলিতেই বেশি করে পুলিশ অবজ়ার্ভার নিয়োগের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হয়। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। শুধু অশান্তি নয়, কমিশন ভোটকে সামনে রেখে টাকা, মদ–মাদক সমেত বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার খেলা বন্ধ করতেও বদ্ধপরিকর।

  • Link to this news (এই সময়)