• উধাও কষা মাংস, সব্জির সংখ্যাও হাতেগোনা, বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে পদ কমছে পাইস হোটেলের
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    দুপুরের ডালহৌসির ভাতের হোটেলের সেই পরিচিত ব্যস্ততার ছবিটা গত কয়েক দিন ধরে বদলে গিয়েছে। সেখানে এখন আর আগের মতো পদের বাহার নেই। মেনু থেকে কোথাও উধাও কষা মাংস, কোথাও আবার সব্জির সংখ্যা হাতেগোনা। কারণ একটাই— বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (কমার্শিয়াল এলপিজি) তীব্র সঙ্কট। আর যা-ও বা মিলছে, তার দাম আকাশছোঁয়া। পরিস্থিতির চাপে পড়ে মধ্য কলকাতার অফিস পাড়ার বহু হোটেল মালিক বাধ্য হয়েই ফিরে গিয়েছেন আদিম কাঠের উনুনে।

    ডালহৌসি বা বিবাদী বাগ চত্বরের সস্তার পাইস হোটেলগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী এবং আইনজীবীদের প্রধান ভরসা। ডালহৌসির এক পাইস হোটেলের মালিক নিখিল দত্তের কথায়, ‘ডোমেস্টিক বা বাড়ির গ্যাসের জোগান থাকলেও কমার্শিয়াল সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্ল্যাকে যা মিলছে, তার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এই দামে গ্যাস কিনে রান্না করলে খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। অথচ দাম বাড়ালে খদ্দের পালাবে।’

    সঙ্কট মোকাবিলায় অনেক দোকানদারই রান্নার পদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। নিখিলের মতোই একই পথে হেঁটেছেন অনন্ত দাস। তাঁর সাফ কথা, ‘দীর্ঘক্ষণ আঁচ লাগে এমন পদ রান্না করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি।’ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ফুটপাথে বা হোটেলের এক কোণে এখন জ্বলছে কাঠের উনুন। ধোঁয়ায় চোখ লাল হলেও ব্যবসায়ীদের অন্য পথ নেই। ওই চত্বরের ফাস্ট ফুড বিক্রেতা, বর্ধমানের বাসিন্দা বিট্টু হালদার বলছেন, ‘গ্যাসের যা দাম, তাতে লাভ তো দূরের কথা, পকেটের কড়ি খরচ হওয়ার জোগাড়। তাই বাধ্য হয়েই কাঠ আর কয়লার উনুন ধরিয়েছি। এতে রান্না হতে সময় বেশি লাগছে ঠিকই, কিন্তু খরচ কিছুটা আয়ত্তে থাকছে।’

    গ্যাস-ভোগান্তির আঁচ পৌঁছেছে আদালতেও। ব্যাঙ্কশাল আদালতের কাছেই বিপ্লব সরকারের দোকানের পরোটা আর হরেক তরকারি আইনজীবীদের পছন্দের। সেই দোকানও এখন বন্ধের মুখে। বিপ্লব বলেন, ‘আগে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকত। এখন দুপুর দুটোর মধ্যেই ঝাঁপ ফেলতে হচ্ছে। যেটুকু গ্যাস আছে, তা দিয়ে যত দিন চালানো যায়।’

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্যাসের এই কৃত্রিম অভাব নিয়ে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। ডালহৌসি চত্বরের ব্যবসায়ীদের একাংশের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান এ ভাবে থমকে গেলে ছোট দোকানগুলো অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। কাঠ ব্যবহার করলেও তাতে দূষণ ও প্রশাসনের ঝক্কি রয়েছে। অবিলম্বে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক না হলে তাঁদের পথে বসতে হবে। একই ছবি শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও। ওই চত্বরের হোটেল ব্যবসায়ী সুব্রত ধর বলছেন, ‘গ্যাসের সরবরাহ ঠিকঠাক নেই। তাই শুধুমাত্র দিনের বেলা দোকান খোলা রাখছি।’

  • Link to this news (এই সময়)