এই সময়, বর্ধমান: খণ্ডঘোষ বিধানসভায় নবীনচন্দ্র বাগকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন খণ্ডঘোষ ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি ও জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম, জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়–সহ ৬ জন অঞ্চল সভাপতি ও ৪ জন প্রধান। এ ছাড়াও প্রায় হাজার দেড়েক তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যও দল ছাড়ার কথা জানিয়ে দেন।
দলীয় প্রার্থীকে ‘বেইমান’, ‘তোলাবাজ’ আখ্যা দিয়ে অপার্থিব ওরফে ফাগুন বলেন, ‘কোনও অবস্থায় আমরা নবীনচন্দ্রকে প্রার্থী হিসেবে মানব না। দল আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না–করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত মেনে আমরাও দল ছাড়ছি। তবে অন্য দলে যাব না।’ যোগ করেন, ‘কোনও ধরনের দলীয় কাজে অংশ নেব না। জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে ফোনে সে কথা জানিয়েও দিয়েছি। এ দিন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে মিটিং করার মাঠ দেখতে ফোন করা হয়েছিল। সেখানেও দল ছাড়ার কথা জানিয়েছি।’
কেন এই ক্ষোভ? অপার্থিব বলছেন, ‘চাকরি বিক্রি করা লোক। দীর্ঘদিন সিপিএম করে সেখানে বেইমানি করে আমাদের দলে এসেছে। এখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বালির টাকা, তোলাবাজি সব কিছুই করে। এমন লোককে জেতানোর জন্য মাঠে নামব না।’ সংযোজন, ‘দল যদি বিশ্বনাথ রায়কে প্রার্থী করে, তা হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারি। না–হলে এই দলে নয়। এক টাকা কামিয়েছি দল করে, কেউ বলতে পারবেন না। এক বিঘে জমি নেই আমার। ভাগচাষ করে খাই। আমি টাকা কামানোর জন্য দল করতে আসিনি। দিদির সৈনিক হয়েই লড়াই করেছি এত দিন। এখন দলেই যদি গুরুত্ব না–থাকে, তা হলে কিসের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করব।’
ব্লক সভাপতির সমর্থনে পাশে থাকা হাজারেরও বেশি সমর্থক স্লোগান দেন নবীনের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথও ক্ষোভ জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম মেনে, আজ বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দেবো জেলা পরিষদে।’
এ দিকে, মন্তেশ্বরে প্রার্থী হিসেবে ফের সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মান ঘোষিত হতেই শুরু হয় উত্তেজনা। দীর্ঘনগরে তৃণমূলের দুই বিবাদমান গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলায় সফিক শেখ নামে এক কর্মী জখম হন। তিনি সিদ্দিকুল্লার অনুগামী বলে জানা গিয়েছে।
মন্তেশ্বরের রাজনীতিতে সিদ্দিকুল্লা এবং তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখের তিক্ততা নতুন নয়। জখম সফিকের অভিযোগ, ‘প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরে আমরা কয়েকজন কয়েকজন বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। আচমকা অন্য গোষ্ঠীর লোকজন গালিগালাজ থেকে মারধর করে। আমার মাথা ফেটেছে। সিদ্দিকুল্লা প্রার্থী হয়েছেন। আমরা যাতে তাঁর প্রচারে না–বেরোতে পারি, তাই এই আক্রমণ।’