• অনেক বেশি ভোটে জিতব! স্পষ্ট ঘোষণা তৃণমূ‍লনেত্রীর, কটাক্ষ শমীকের
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ২০২১–এর তুলনায় এ বার বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে অনেক বেশি ভোটে তিনি জয়ী হবেন বলে দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থিতালিকা ঘোষিত হয়েছে। সেখানে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি তৃণমূলনেত্রীর খাসতালুকে এ বার প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাঁচ বছর পরে ফের রাজ্যের মানুষ মমতা বনাম শুভেন্দুর ডুয়েল দেখতে চলেছেন।

    ভবানীপুরে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়া নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দৃশ্যতই বিরক্ত হন তৃণমূলনেত্রী। কালীঘাটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ‘এটা নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। অভিষেক বলেছে, ভবানীপুরে আমি তৃণমূলের প্রার্থী। মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। আমি ৩৬৫ দিন মানুষের জন্য কাজ করি। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ইদ— সব দায়িত্ব পালন করি। আমার কাছে এটা এক দিনের লড়াই নয়, আমি ৩৬৫ দিন মানুষের সঙ্গে থাকি।’ ভবানীপুরে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফের সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করায় বিরক্ত মমতা বলেন, ‘ভবানীপুরে অনেক বেশি ভোটে জয়ী হব। আমরা ২৯৪টা সিটে লড়াই করছি। সেই লড়াইয়ে ভবানীপুর লিড করবে।’

    ২০২১–এর নির্বাচনে ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ২৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। পরে মমতা ভবানীপুরে উপনির্বাচনে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন। ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জোড়াফুল ৮ হাজারের বেশি ভোটে লিড নিয়েছিল। যদিও বিজেপি মনে করছে, শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় ভবানীপুুরে জোরদার লড়াই হতে চলেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে যখন বলতে হচ্ছে, তিনি ৩৬৫ দিন কাজ করেন, সেটাই তো বলে দিচ্ছে ফলাফল কী হবে। নন্দীগ্রাম তো তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছে, ভবানীপুরেও শুভেন্দু জিতবে।’ কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব দৃঢ়প্রত্যয়ী, মমতা বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন। প্রসঙ্গত, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) চূড়ান্ত লিস্ট বেরনোর পরে দেখা যায়, সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তারপরে একটি সভায় তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, ‘আমার ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র। মাত্র ২ লক্ষ ৬ হাজার ভোটার রয়েছে। সেখান থেকে প্রথমে ৪৪ হাজার ও পরে আরও ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে (কমিশন)! তারপরেও বলছি, ভবানীপুরে আমিই জিতব। এক ভোটে হলেও জিতব।’

    এ বার শুভেন্দু ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও প্রার্থী হয়েছেন। বিরোধী দলনেতার দু’টি আসনে লড়াই করার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে এ দিন ফের বিরক্ত হয়ে মমতা বলেন, ‘আমি কেন অন্য পার্টি নিয়ে মন্তব্য করব। জনগণ সব দেখছে।’ ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি এই ভোটে জোড়াফুল অন্তত ২২৬টি আসন পাবে বলে এ দিন দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শমীকের বক্তব্য, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হইহই করে তৃণমূলকে সরিয়ে দেবে।’

    শুভেন্দু কবে থেকে ভবানীপুরে প্রচার শুরু করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও ভবানীপুরে বিজেপির দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। জোড়াফুলের প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছে। কয়েক দিন আগে ফিরহাদ হাকিম চেতলায় প্রচার করেছেন। এই এলাকা ভবানীপুরে বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কবে থেকে টানা নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন, তা কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। কবে থেকে প্রচারে নামবেন— এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা এ দিন বলেন, ‘মানুষের উপরে যে বিষয় আঘাত হানে, তা নিয়ে প্রতিবাদ আগে দরকার। তাই তৃণমূলকে ভোট দিন— এই কথা বলার আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের আকাল নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। প্রচারের সূচি ঠিক হয়ে গেলে জানিয়ে দেবো।’

  • Link to this news (এই সময়)