তিনি রাজনীতিতে (West Bengal Election 2026) নতুন নন। তবে বিধানসভা ভোটে লড়ছেন প্রথমবার। তিনি ঋতুপর্ণা আঢ্য (Rituparna Addhya)। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল (TMC)। তার পরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনীতিতে। কেন?
ঋতুপর্ণার বেড়ে ওঠা বনগাঁতেই। তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর। বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। বাবা শঙ্কর আঢ্য এবং মা জ্যোৎস্না আঢ্য উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে পরিচত মুখ। দু’জনেই বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানও হয়েছেন।
স্বাভাবিক ভাবে রাজনৈতিক পরিবেশেই বড় হয়েছেন ঋতুপর্ণা। চোখের সামনে দেখেছেন এর চলন-বলন। তবে রাজনীতির ময়দানে হাত শিবিরের হাত ধরেই হাতেখড়ি হয় তাঁর। কংগ্রেসের হয়ে জীবনের প্রথম পুরসভা নির্বাচনে লড়েন তিনি। সহজে জেতেনও। পরে তৃণমূলে যোগ দেন।
তবে বিতর্কেও জড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একাধিক মামলায় তাঁর বাবা শঙ্কর আঢ্যর নাম জড়িয়েছে। জেল হেফাজতেও ছিলেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় আবার ঋতুপর্ণাকে নজরদারির আওতায় রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর মা জ্যোৎস্নার বিরুদ্ধে। এই মামলায় ঋতুপর্ণাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
ঋতুপর্ণা এখন বনগাঁ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার পরেই বিজেপিকে হারানোর শপথ নিয়েছেন তিনি। বনগাঁয় জিতে একটি হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন দেখেন ঋতুপর্ণা। তাঁর মতে, এতে গাইঘাটা, গোপালনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের সুরাহা হবে। নিজের কাজের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট। বিজেপিকে নিয়ে ভাবছেনই না তিনি।
তবে রাজনীতি, সমাজসেবার বাইরেও ঋতুপর্ণার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। সেটা হলো তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তিনি সক্রিয়। ফলোয়ার্সও ভালোই। ইশ্বরের প্রতি তাঁর ভক্তি-শ্রদ্ধাও খুব। একাধিক মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি, ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি। ফেসবুক বায়োতে বিজনেস ওম্যান বলেও নিজের পরিচয় দিয়েছেন। এখন বনগাঁ ঋতুপর্ণাকে জিতিয়ে আনে কি না, সেটাই দেখার।