• জেতা আসনে বদল নয়, শিল্পাঞ্চলে ভরসা পুরোনোরাই, সাংবাদিক ও ছাত্রনেতায় চমক
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, ব্যারাকপুর: সোমবার বামফ্রন্ট ও বিজেপি আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল। ফলে শাসকদলে কারা কারা প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবার তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই দেখা গেল ব্যারাকপুর মহকুমায় পুরোনো এবং সাংগঠনিক মুখের উপরেই ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    জেতা আসনে খুব একটা প্রার্থী বদল হয়নি। কেবলমাত্র নোয়াপাড়া, খড়দহ এবং পানিহাটিতে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। হারা আসন ভাটপাড়াতেও আনা হয়েছে নতুন মুখ। বীজপুরের বিদায়ী বিধায়ক সুবোধ অধিকারী ও নৈহাটিতে উপ নির্বাচনে জিতে আসা সনৎ দে ফের টিকিট পেলেন। জগদ্দলে সোমনাথ শ্যাম, ব্যারাকপুরে তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী, কামারহাটিতে মদন মিত্র, উত্তর দমদমে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং বরাহনগরে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় যথারীতি টিকিট পেয়েছেন।

    তবে চমক ছিল পানিহাটিতে। পাঁচবারের বিধায়ক নির্মল ঘোষকে প্রার্থী না করা হলেও তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে ওই আসনে। তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বয়সজনিত কারণেই নির্মলকে সরানো হয়েছে। তীর্থঙ্কর পানিহাটি পুরসভার পুর পারিষদ সদস্যের পাশাপাশি এলাকায় যুব নেতা হিসেবেও পরিচিত। তীর্থঙ্কর বলেন, ‘ভোটে জিতে আমার প্রথম কাজ পানিহাটি হাসপাতালকে ঢেলে সাজা।’

    নোয়াপাড়ার বিধায়ক মঞ্জু বসুকে টিকিট দেয়নি শাসকদল। কয়েকদিন আগেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মঞ্জু বসুকে তিনি পছন্দ করছেন না। তাঁর বদলে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণাঙ্কুর টিকিট পাচ্ছেন বলে কানাঘুষো ছিলই। হালিশহরের বাসিন্দা হলেও ছাত্র রাজনীতি করার সুবাদে তাঁর পরিচয় আছে। ফলে শহিদ বিকাশ বসুর পরিবারের বাইরে নোয়াপাড়া আসনটি দখলে নিতে ছাত্র নেতার উপরেই ভরসা রাখল দল।

    খড়দহের প্রার্থী নিয়ে ছিল জোর চর্চা। এই কেন্দ্রে গত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বারবার বিব্রত হতে হয়েছে দলকে। দাবি উঠেছিল ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার৷ তাতেই দল সিলমোহর দিল। সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতের নাম এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হতেই শহর থেকে গ্রাম প্রচার শুরু হয়ে যায়। ভাটপাড়া আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর শাসকদল। এই আসনে বিজেপি বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থী অর্জুন পুত্র পবন কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় যুব নেতা অমিত গুপ্তাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা হিন্দি প্রকোষ্ঠের সভাপতি। ভাটপাড়ার মতো অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় অমিত গুপ্তাকে প্রার্থী করেও মাস্টারস্ট্রোক দিল শাসকদল।

    এ দিন প্রার্থী তালিকায় নাম আসার পরই নৈহাটির বড়মা মন্দিরে পুজো দিতে যান বরাহনগরের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার প্রার্থী তৃণাঙ্কুর এবং নৈহাটির প্রার্থী সনৎ দে। পরে সায়ন্তিকা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সজল ঘোষের প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেড়া একবারই বেলতলায় যায়। কিন্তু উনি একবার হেরে গিয়েও আবার লড়তে আসছেন।’ ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তা বলেন, ‘আমি জিতলে সবার আগে জুটমিলগুলি খোলার বিষয়ে কাজ করব। অর্জুন সিংয়ের জন্যই আজ ভাটপাড়ায় জুটমিলগুলির দুরবস্থা।’

  • Link to this news (এই সময়)