• I-PAC মামলায় ইডির কেসের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাজ্য
    এই সময় | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • আইপ্যাক মামলার (I-PAC Case) শুনানি সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। ইডির দায়ের করা মামলার বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত শুনানি চলে এ দিন।

    শুনানির শুরুতেই রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না ইডি। ইডির দেওয়া নথি ও হলফনামার জবাব দিতে চেয়ে অতিরিক্ত সময়ও চান তিনি। কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পাল্টা দাবি করেন, চার সপ্তাহ আগে জমা দেওয়া হয়েছে নথি, হলফনামা। রাজ্য ইচ্ছে করে শুনানি পিছিয়ে দিতে চাইছে, অভিযোগ করেন মেহতা।

    বিচারপতি পিকে মিশ্র জানতে চান, চার সপ্তাহ সময় পেয়েও কেন পাল্টা জবাব দেওয়া গেল না? সওয়াল-জবাব শুরু করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করেন, পাল্টা হলফনামা নিয়ে উত্তর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে কপিল সিবাল, সিদ্ধার্থ লুথরার মতো আইনজীবীরা এ দিন ইডির মামলা আদৌ ধোপে টেকে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন। আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি সওয়াল করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকেও সময় দেওয়া হয়েছে।

    পাল্টা আইনজীবী তুষার মেহতার বক্তব্য, চার সপ্তাহ সময় পেলেও তারা কোনও উত্তর দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা পুরোপুরি unusual’। বিচারপতি মিশ্র জানিয়ে দেন, এ দিনই মামলার শুনানি হবে।

    শুনানিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ ধারায় দায়ের করা ইডির এই পিটিশন বৈধ নয়। কারণ ইডির মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়নি। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করছে কেন্দ্রীয় সরকার, যেখানে সংবিধানের পার্ট ৩ অনুযায়ী সুরাহা চাওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এটা করতে পারে কি? এখানে রাজ্যের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও জড়িত আছে। এখানে দু’জন ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে কী করে? এটা সাংবিধানিক বিষয়। পুরো বিষয়টির সঙ্গে জড়িত আছে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ইস্যুও। এই মামলার শুনানি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে হতে পারে।’

    দিওয়ানের যুক্তি, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে এর পর থেকে একটি সংস্থা অন্য সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। রাজ্য মামলা করতে পারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবং তার উল্টোটাও হতে পারে। এর বিচার লার্জার বেঞ্চে করা দরকার। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এখানে ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা একটি দপ্তর। পুরো বিষয়টির সঙ্গে জড়িত আছে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ইস্যু।’

    বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, এর আগে কোনও দিন কেন্দ্র বনাম রাজ্যের বিবাদের ক্ষেত্রে কে কার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে, কোনও তদন্তকারী সংস্থার নামে মামলা করতে পারে কি না, এই বিষয়টি নিয়ে কোনও বিবেচনা করা হয়েছে কি? মনে হয় না।

    শ্যাম দিওয়ানের জানান, কোন ইস্যুতে মামলা করা হবে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও বিভাগ বা সংস্থা যখন রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করে তখন চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না।

    বিচারপতি মিশ্র বলেন, ‘এখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাদের তদন্তে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জোর করে ঢুকে পড়েছেন তদন্তের জায়গায়, নথি নিয়ে চলে গিয়েছেন। এর পরেও তারা মামলা করবে না? শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে?’ দিওয়ান সওয়াল করেন, যদি মামলা করার বিধান ও ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সংস্থার না থাকে, তা হলে তারা মামলা করবে কী করে?

    দিওয়ান আরও দাবি করেন, ‘আইনে যে সাম্যের অধিকারের কথা বলা আছে, সেই অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ইডির এই মামলায়। স্টেট ভার্সেস স্টেট মামলা করতে হলে সাংবিধানিক এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে করতে হবে। রাষ্ট্রেরই একটি অংশ অন্য অংশের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের মামলা করতে পারে না।’

    কপিল সিবালও সওয়াল করেন, ‘PMLA কী? এটা একটা আইন যা তদন্তকারী আধিকারিকদের তদন্ত করতে ক্ষমতা দেয়। পিএমএলএ কোনও আধিকারিককে মৌলিক অধিকার প্রদান করে না। কেউ কেন্দ্রীয় তদন্তে বাধা দিলে কী করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেই।’

    বিচারপতি মিশ্র বলেন, ‘আমরা যেটা বুঝতে পারছি, তা হলো— তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন ইডি আধিকারিকরা, তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ ২৪ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

  • Link to this news (এই সময়)