দক্ষিণ কলকাতার ৪০ জায়গায় গাছ উপড়েছে, ফের কালবৈশাখীর সতর্কতা, কবে?
আজ তক | ১৮ মার্চ ২০২৬
মরসুমের প্রথম কালবৈশাখীর দাপটে কেঁপে উঠল কলকাতা। সোমবার রাতের প্রবল ঝড়-বৃষ্টিই জানিয়ে দিল, শুরু হয়ে গেল এবারের ঝড়ের মরসুম। ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙেছে বহু বাড়ির জানলার কাঁচ। তবে ঝড়ের পরেই তাপমাত্রা নেমে এসে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে নাগরিকদের।
মঙ্গলবার দিনভর আবহাওয়া ছিল তুলনামূলক শুষ্ক। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী দু-একদিন এমনই আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ফের এক দফা বজ্রঝড় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে শহরে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০টি জায়গা থেকে গাছ উপড়ে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ, বেহালা ও আলিপুর এলাকায় ঝড়ের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
সোমবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়। রাত ৯টার পর থেকেই ঝোড়ো হাওয়ার বেগ দ্রুত বাড়তে থাকে। ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকানি আকাশকে বারবার আলোকিত করে তোলে, তৈরি হয় আতঙ্কের পরিবেশ।
রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ আলিপুরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে প্রায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা এই ঝড়ের তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেই এই ঝড়ের উৎপত্তি। পরে তা ক্রমে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঝড়-বৃষ্টির ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, ‘স্কোয়াল’ বা ঝোড়ো হাওয়া এক ধরনের আকস্মিক ঝড়, যা বৃষ্টিসহ আঘাত হানে। আর কালবৈশাখী সেই ধরনেরই শক্তিশালী ঝড়, যা মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে তৈরি হয়ে পূর্বভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ ধরনের ঝড়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটারের বেশি বেগে হাওয়া বইতে পারে।
এই ঝড়ের ফলে শহরের তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি কম।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত শুক্রবার পর্যন্ত বড় কোনও ঝড়ের সম্ভাবনা নেই। তবে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। আর পরিবেশে তাপ ও আর্দ্রতা বাড়লেই ফের তৈরি হতে পারে কালবৈশাখীর অনুকূল পরিস্থিতি।