গোপাল সোনকার
বাবার কাছ থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। বাম আমলের মন্ত্রীকন্যাকে পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিলেন তৃণমূলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার আরও বড় দায়িত্ব। একসময়ের লাল দুর্গে বসুন্ধরা গোস্বামীকে পাঠানো হলো জিতে আসার জন্য। বৃহস্পতিবারই বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন বসুন্ধরা। এ বার মিশন ‘পূর্বস্থলী উত্তর’।
৭৭ সাল থেকে এই কেন্দ্রে জিতে এসেছেন সিপিএম প্রার্থীরা। ২০১১ সালে প্রথম এই কেন্দ্রের রং বদল হয়। জিতে আসেন তৃণমূল প্রার্থী তপন চট্টোপাধ্যায়। ১৬-তে সিপিএম পুনর্দখল করে আসনটি। জিতে আসেন সিপিএম নেতা প্রদীপ সাহা। ২১ সালের নির্বাচনা এই কেন্দ্রে ফের জেতেন তপন চট্টোপাধ্যায়। তবে তৃণমূল জিতলেও এই কেন্দ্রে এখনও বামপন্থীদের শক্ত সংগঠন রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের।
এ বারও প্রদীপ সাহাকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। তবে বিরোধী প্রার্থী নিয়ে এখনই চিন্তিত নন বসুন্ধরা। এই সময় অনলাইনকে বসুন্ধরা বলেন, ‘আমি যাদবপুরের কাউন্সিলার। কী ভাবে কাজ করতে হয় তা একটু হলেও জানা আছে। আর সব সময় মানুষের সঙ্গেই থাকি। প্রস্তুতি চলছে, লড়াইটা বাকি আছে। সিপিএম ও বিজেপি কোনও ফ্যাক্টর নয়, এদের সঙ্গে লড়াই করতে আমি পারব।’
বসুন্ধরা বলেন, ‘নেত্রী বলে দিয়েছেন প্রবীণ নেতা স্বপন দেবনাথের সঙ্গে গিয়ে দেখা করতে। আমি দেখা করব, তাঁর আশীর্বাদ নেব। তিনি বাকি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করাবেন, বৈঠক করাবেন। ওখানকার লোকাল ও প্রবীণ কর্মীদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করব। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে দলটি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের মত নেওয়া আমার প্রথম কাজ।’ এর পরেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার শুরু করবেন বসুন্ধরা।
বসুন্ধরা বলেন, ‘বাবার কাছেই শিখেছি মানুষের হয়ে কাজ করা,তাই যতই বাঁধা আসুক মানুষের হয়ে কাজ করবো।…শুনেছি পূর্বস্থলী উত্তরের নদী ভাঙনের একটা বড় সমস্যা রয়েছে। প্রথম ওখানকার প্রবীণদের মত নেওয়া এবং ঘরে ঘরে গিয়ে মহিলাদের কথা শোনা, তারা কী চাইছেন। একজন প্রতিনিধির কাজই হল মানুষের সমস্যার কথা শুনে বিধানসভায় বলা।’