সল্টলেকে আই প্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশির ঘটনায় রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত গড়াল সুপ্রিম কোর্টেও। সেদিন ED-র কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকার সমালোচনা করে দেশের শীর্ষ আদালত।
এদিনের শুনানির সময় প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চের কাছে রাজ্য সরকার আবেদন করে, যেন মামলা স্থগিত রাখা হয়। তবে তা খারিজ করে দেন বিচারপতিরা। বরং জানিয়ে দেন, 'কোর্টকে আইনজীবীরা নির্দেশ দিতে পারেন না। বরং বেঞ্চই ঠিক করবে কীভাবে কোর্ট চলবে।'
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ED-র তদন্তে হস্তক্ষেপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়। বিচারপতিরা বলেন, 'এটা কোনওভাবেই সুখকর পরিস্থিতি নয়।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
বিচারপতিরা শুনানির সময় বলেন, 'এক মুখ্যমন্ত্রী সরকারি দফতরে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিচ্ছেন। এর প্রতিকার কী? ভবিষ্যতে অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি একই কাজ করেন, তখন কী হবে?' আদালত আরও জানায়, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যায় না।
এই পর্যবেক্ষণের সুপ্রিম কোর্টের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা হতে পারে। আদালতের মতে, 'একটি অর্গানিক পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা, যেখানে কোনও কার্যকর প্রতিকার থাকা প্রয়োজন।'
কেন্দ্রীয় সংস্থা ED-র অভিযোগ, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য প্রশাসন তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করে। ইডির দাবি, ওই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল একটি মানি লন্ডারিং তদন্তের সূত্রে, যা কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত।