• চাহিদা বাড়তেই চড়া দাম ইন্ডাকশন কুকটপের, তা-ও অমিল বহু দোকানে
    আনন্দবাজার | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • চাঁদনি চক বাজারে একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে ঢুকতেই বিক্রেতা প্রশ্ন করলেন, ‘‘ইন্ডাকশন খুঁজছেন তো? একটিও পড়ে নেই। স্টক শেষ। ক’দিন পরে আবার খোঁজ নিন।’’ গড়িয়াহাট, ধর্মতলা, হাতিবাগান বাজার থেকে চাঁদনি চক, ফুটপাত থেকে বড় দোকান, সর্বত্রই ইন্ডাকশন কুকটপ কিনতে ভিড় করছেন মানুষ। কিন্তু অধিকাংশ দোকানেই তা অমিল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গ্যাসের আকাল দেখা দিতেই দু’-তিন দিনের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তার পরে যে ক’টি এসেছে, সেগুলির দাম ছিল চড়া। তা সত্ত্বেও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যায়। ইন্ডাকশনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি বেড়েছে হিটারেরও।

    যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, রান্নার গ্যাস আবার কবে সময় মতো পাওয়া যাবে, আপাতত এ সব প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছেই। এক দিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে বন্ধ হতে বসেছে একের পর এক রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকান। অন্য দিকে, গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের অভাবে বিপাকে সাধারণ মানুষ। আগের মতো সহজে গ্যাস বুক করা যাচ্ছে না। যদি বা করা যায়, তা হলেও গ্যাস কবে মিলবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসাবে অনেকেই ইন্ডাকশন কুকটপ বা হিটারের খোঁজে দোকানে দোকানে ঘুরছেন। খোঁজ চলছে অনলাইনেও।

    চাঁদনি চক বাজারে বৈদ্যুতিক সামগ্রীর পুরনো দোকান হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা শেখ জাহির হাসানের। তাঁর কথায়, ‘‘গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিতেই ইন্ডাকশন কুকটপের বিক্রি এক লাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। আগে যা দিনে দু’-তিনটি করে বিক্রি হত, পরে তা-ই দিনে ১০-১২টি করে বিক্রি হচ্ছিল।’’ শুধু তা-ই নয়, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইন্ডাকশনের দামও বেড়ে গিয়েছে এক লাফে। বাদশা নামে আর এক বিক্রেতা জানালেন, আগে একটি সংস্থার যে ইন্ডাকশন কুকটপের দাম ছিল ১৫৫০ টাকা, গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হওয়ার পরে এখন সেটিরই দাম হয়েছে দু’হাজার টাকা। অন্য একটি সংস্থার ইন্ডাকশন কুকটপের দাম ছিল ৩৩০০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪৩০০ টাকা।

    ফুটপাতে ইন্ডাকশন কুকটপ ও হিটারের মতো সামগ্রী নিয়ে বসে ছিলেন আনন্দ সিংহ। তাঁর সামনে ইন্ডাকশন কিনতে ভিড় করেছিলেন অনেকে। আনন্দ বললেন, ‘‘আগে রোজ গড়ে দুটো করে বিক্রি হত। এখন ১২-১৪টি করে বিকোচ্ছে। এমন চাহিদা আগে দেখিনি।’’ হাওড়া থেকে এসেছিলেন রমেন সাহা নামে এক ক্রেতা। তাঁর কথায়, ‘‘গ্যাসের যা আকাল, তাতে ইন্ডাকশন না কিনে উপায় নেই। এতে রান্নার খরচও কম।’’ দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা, মনোরঞ্জন দাস নামে এক ক্রেতার কথায়, ‘‘বাধ্য হয়েই ইন্ডাকশন কিনছি। দাম কম হবে বলে এখানে এসেছি।’’ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ চাঁদনি চক বাজার থেকে ইন্ডাকশন কুকটপ কেনার পরে বললেন, ‘‘রমজান মাস শেষের দিকে। তার পরে খুশির ইদ। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসে ভরসা রাখতে পারছি না। তাই ইন্ডাকশন মজুত রাখছি।’’

    কেবল নতুন ইন্ডাকশন কেনাই নয়, পুরনো ইন্ডাকশন কুকটপ সারাই করতেও ভিড় বাড়ছে চাঁদনি চক বাজারে। নিজের দোকানে বসে সেগুলি সারাচ্ছিলেন মেহতাব আলম নামে এক মিস্ত্রি। মেহতাবের কথায়, ‘‘গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হওয়ার পর থেকেই রোজ ইন্ডাকশন সারাতে বেশ কয়েক জন করে আসছেন।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)