• ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ওয়ার্ডে প্রার্থী শুভেন্দুর সমর্থনে বিজেপির প্রচার শুরু, তৃণমূলের পাল্টা প্রস্তুতি-বৈঠক তলব
    আনন্দবাজার | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের আগে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের ওয়ার্ডেই প্রচার শুরু করল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি নেতৃত্ব বুধবার রাত থেকেই কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে জোর প্রচার শুরু করেছেন। এই ওয়ার্ডেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং তাঁর পরিবার।

    বুধবার রাত থেকে বিজেপির তরফে ওয়ার্ড জুড়ে ফ্লেক্স ও পোস্টার লাগিয়ে শুভেন্দুর সমর্থনে প্রচার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় এই প্রচার চোখে পড়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, বিজেপি তাদের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হয় যে, নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফেও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে মুখ‍্যমন্ত্রীর নাম প্রার্থী হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন।

    এর পর থেকেই ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রচারের লড়াই তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডে বিজেপির এই আগ্রাসী প্রচারকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই পরিস্থিতিতে পাল্টা কৌশল নির্ধারণ করতে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কলকাতা পুরসভার জয়হিন্দ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, স্থানীয় কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

    তৃণমূল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই কাউন্সিলর কাজরী এবং তাঁর স্বামী কার্তিক নিজেদের উদ্যোগে এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপির লক্ষ্য এই ওয়ার্ডে পুরনো ভোটের ব্যবধান ঘোচানো। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে তৃণমূল ৪৯৬ ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল। ২০১৯ সালেও বিজেপি এগিয়ে ছিল। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ২৩০ ভোটে এগিয়ে যায় তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে ভোটের ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিক বলেন, “আমরা শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিশ্চিত করতে চাই। মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডে বিজেপির জয়ই আমাদের লক্ষ্য। আগামী দিনে এই ওয়ার্ডে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকব বলেই আমাদের বিশ্বাস।”

    সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ওয়ার্ডেই বিজেপির এই আগাম প্রচার রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)