বাস শ্রমিকরা লিখছেন তৃণমূলের দেওয়াল, জবাব দিচ্ছে বিজেপিও
বর্তমান | ১৮ মার্চ ২০২৬
সমীর সাহা, নবদ্বীপ: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম যুযুধান সবপক্ষই দেওয়াল লিখনের প্রচারে ঝাঁপিয়েছে। তবে নবদ্বীপে দেওয়াল লিখনের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে শাসকদল তৃণমূল। বিশেষ করে শাসকদলের বাস শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব ভোটকে সামনে রেখে শ্রমিকদের চাঙা করার নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাস শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। প্রার্থীর নাম ঘোষণার আগে থেকেই প্রচারের জন্য দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থীদের প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলি। দেওয়াল লিখলেও কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, পথশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী, খাদ্য সাথী, যুব সাথী, শিশুসাথী, কৃষক বন্ধু, বাংলার আবাস যোজনার মতো প্রকল্পগুলি তুলে ধরা হচ্ছে। আবার কোথাও জনজীবনে প্রতিদিনের ব্যবহার্য জীবনদায়ী ওষুধ, রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো বৃহৎ ইসুগুলিও তৃণমূলের প্রচারে উঠে এসেছে। দেওয়াল লিখনে নজরে পড়ছে বিভিন্ন ছড়া। কোথাও লেখা হয়েছে ‘ডুববে পদ্ম ফুটবে ফুল, ২০২৬ - এ নবান্নে আবার তৃণমূল’, আবার কোথাও ‘যতই করো হামলা,আবার জিতবে বাংলা।’ এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে দলের প্রতীক এঁকে দেওয়াল ভরিয়ে ফেলছেন নবদ্বীপ বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।
আবার গেরুয়া শিবির তাঁদের দেওয়াল লিখনে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিকগুলি তুলে ধরেছে। দেওয়ালে লেখা হয়েছে ‹বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’।
বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই’’ আমাদের মূল ট্যাগলাইন। অর্থাৎ সুস্থ ভাবে বাঁচতে গেলে বিজেপি করতে হবে। আমাদের দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে মোদিজীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা যেমন তুলে ধরা হচ্ছে তেমনই রাজ্য সরকারের অপদার্থতা, দুর্নীতি, ধর্ষণ, খুন এগুলিও তুলে ধরা হয়েছে।
সিপিএমের নবদ্বীপ এরিয়া কমিটির সদস্য তথা নবদ্বীপ সিআইটিইউ-র সম্পাদক সৌমেন অধিকারী বলেন, বেকার যুবকদের চাকরি, শিল্প ও শিক্ষার করুণ দশা। এসবই দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, বাংলায় উন্নয়ন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। যেগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত এর বিকল্প কোনো দল বা কোনো নেতৃত্ব করে দেখাতে পারেনি।