• ছড়া-ছন্দে দেওয়াল লিখন, চোখ টানছে যাদবপুর
    বর্তমান | ১৮ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণা হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। যাদবপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় নজরে পড়ছে দেওয়ালজুড়ে থাকা ছড়া-ছন্দ। এই কেন্দ্রের পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটা কিংবা সাঁপুইপাড়া, মণ্ডলপাড়া, সর্বত্র চোখে পড়ছে ছন্দ মিলিয়ে ঘাসফুলের দেওয়াল লেখা।

    যাদবপুর কেন্দ্র এক সময় বামদুর্গ হলেও গত ১৫ বছরে রং পাল্টে গিয়েছে। ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মণীশ গুপ্ত জিতলেও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের বামেদের দখলে চলে যায় কেন্দ্রটি। বিধায়ক হন সুজন চক্রবর্তী। আবার ২০২১ সালে তৃণমূলের হয়ে যাদবপুরে জিতে বিধায়ক হন দেবব্রত মজুমদার। এবারও দেবব্রতবাবুকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যাদবপুরে প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন, সেই রাজনৈতিক খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। আর প্রচার কৌশলের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে দেওয়াল লিখন। সাবেকি মোড়ক ছেড়ে সেটিই হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়।

    যাদবপুর বিধানসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়া, মধ্য পূর্বাচল কিংবা নন্দীবাগান, সর্বত্র দেওয়ালে দেওয়ালে ছড়া-কৌতুকে ছয়লাপ। কোথাও অসাধারণ ছন্দ। লেখা, ‘তোমার দলে অমিত-মোদি, নেতায়-নেতায় ভারী, আমার দলে একলা দুর্গা, পঁয়ষট্টির নারী।’ কোথাও আবার দেওয়ালজুড়ে রয়েছে, ‘পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ।’ যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটার তালপুকুর রোডে জ্বলজ্বল করছে সরকারি ভাতা নিয়ে রঙিন দেওয়াল লিখন। লেখা হয়েছে, ‘আগে পেতাম ১০০০, এখন ১৫০০ পাই, তাই তৃণমূলকেই চাই... বাংলা নিজের মেয়েকে চায়।’ এমন নানান ছড়া-ছন্দে নির্বাচন ঘোষণা হতে না হতেই রঙিন হয়ে উঠেছে যাদবপুরের দেওয়াল।

    রকমারি দেওয়াল লেখা প্রসঙ্গে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর বলেন, ‘ভোটের সময় রাজনৈতিক দেওয়াল লিখনে ছড়া, কবিতা, স্লোগান এবং কার্টুনের উপর মানুষের একটা আগ্রহ রয়েছে। এগুলি মানুষকে আকর্ষণ করে বেশি।’ অন্যদিকে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর কথায়, ‘রাজনীতির কূটকচালিতে অনাগ্রহী মানুষও ভোটের প্রচারে দেওয়ালে ছড়া, কবিতা লেখা দেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারি স্কিমে ঘরে ঘরে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তাই দেওয়াল লিখনেও সেই ছাপ থাকবে।’ শুধু প্রার্থীর নাম লিখে ভোটের আবেদন নয়, থাকছে হরেক রকমের ছড়া, স্লোগান, কার্টুন। যা দেখে মজা পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
  • Link to this news (বর্তমান)