‘বহিরাগত’ অটোকে জ্বালানি কেন? প্রশ্ন স্থানীয় চালকদের, বিপর্যস্ত হাওড়া, ২০ রুটে অটোর সংখ্যা কমে অর্ধেক
বর্তমান | ১৮ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এলপিজি সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ফলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাওড়া শহরের অটো পরিষেবা। জ্বালানি না পাওয়ায় শহরের প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অটোর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে শহরবাসীকেই চূড়ান্ত নাজেহাল হতে হচ্ছে।
হাওড়া স্টেশন, সালকিয়া, জি টি রোড সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চালু রয়েছে একাধিক অটো রুট। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৯০০ অটো চলাচল করত। এলপিজি সংকট তীব্র হওয়ায় বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অটো কমে যাওয়ায় সকাল-বিকালের ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়ে টোটোয় চাপতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হাওড়া স্টেশন থেকে ঘাসবাগান, পিলখানা, জে এন মুখার্জি রোড, সালকিয়া স্কুল রোড হয়ে ডন বসকো পর্যন্ত রুটে। এই রুটে সাধারণত ১৬০টি অটো চলাচল করলেও গ্যাস সংকটের কারণে মঙ্গলবার থেকে রাস্তায় নামছে মাত্র ৭০টি অটো। একইভাবে হাওড়া স্টেশন থেকে সালকিয়া চৌরাস্তা রুটে আগে ১০৯টি অটো চললেও বর্তমানে ৬০টির মতো অটো যাত্রী পরিষেবা দিচ্ছে। হাওড়া স্টেশন থেকে শিবপুর ট্রাম ডিপো এবং ডোমজুড় থেকে বেগড়ি হয়ে ধূলাগড় পর্যন্ত রুটেও একই ছবি। আগে যেখানে ৭২টি অটো চলত, এখন সেখানে চলছে মাত্র ৩০টি। অটোর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ছোটো ব্যবসায়ীরাও। একই অবস্থা বেলুড় স্টেশন-চাঁদমারি, লিলুয়া-ভট্টনগর, বামনগাছি-বাঁধাঘাট অটো রুটে। অফিসটইমে অটো না পেয়ে অনেক যাত্রীকেই টোটো বা অন্য যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সালকিয়ার বাসিন্দা দেবেশ ভৌমিক বলছিলেন, ‘আগে টোটোতে ২০ টাকায় যাতায়াত হত। এখন ১০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তারপর অটো কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। হাতে বাড়তি সময় নিয়ে বেরতে হচ্ছে বাড়ি থেকে।’ শিবপুর ট্রাম ডিপোর বাসিন্দা জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘জি টি রোডে যানজটের জন্য বাসেও খুব সুবিধা হয় না। অটোই ছিল ভরসা। এখন সেটাও আর ভরসার জায়গায় নেই দেখছি!’
সূত্রের খবর, গত ১০-১১ দিন ধরে হাওড়ার বিভিন্ন পাম্পে এলপিজির চাহিদা চরমে উঠেছে। অনেক সময় চাহিদা মতো জোগান দেওয়া যাচ্ছে না। আগে যেখানে তিন থেকে চার দিনে একটি ট্যাংক খালি হত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার অটোচালকরা জ্বালানির খোঁজে হাওড়ার পাম্পগুলিতে ভিড় করায় চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি পাম্প কর্মীদের। সোমবার বিকালে বরানগর ও জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে বহু অটোচালক উত্তর হাওড়ার একটি গ্যাস পাম্পে ভিড় করেছিলেন। বাইরের এলাকার অটোচালকরা হাওড়া থেকে এলপিজি নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অটোচালকরা। কোথাও কোথাও এনিয়ে দু’পক্ষের বচসার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় অটোচালকদের অভিযোগ, সারা বছর তাঁরা এই পাম্পগুলির উপর নির্ভর করেই গাড়ি চালান। সংকটের সময় বাইরের গাড়িগুলিকে কেন জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবারও ফোরশোর রোড সংলগ্ন একটি গ্যাস পাম্পে কলকাতার অটোর দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ মানুষ।