সংসদীয় রাজনীতিতে আছেন প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে। অবশ্য রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রাবস্থাতেই। মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময়েই যোগ দেন ছাত্র পরিষদে। পরে কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সেই মানস ভুঁইয়াকে আবার সবং কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)।
তাঁর উপর আস্থা রাখার জন্য মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia) ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banjeree)। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে কেঁদেও ফেলেন তিনি। তবে তাঁর এই আবেগের কান্নাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। মানস ভুঁইয়ার কান্নাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করছে পদ্ম শিবির।
১৯৮২ সাল থেকেই এক টানা বিধায়ক মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। প্রত্যেক বারেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং (Sabang) কেন্দ্র থেকে। প্রথমে কংগ্রেসের (Congress) হয়ে। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে।
সবংয়ের গড় ধরে রাখতে আবারও তাঁর উপরেই আস্থা রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। আর এতেই আবেগাপ্লুত মানস ভুঁইয়া। এই জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)।
তিনি বলেন, ‘আমি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্ত রাজীব গান্ধীর (Rajiv Gandhi) পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কেউ আমাকে ভালোওবাসেনি, স্নেহও দেয়নি, বিশ্বাসও করেনি, মর্যাদাও দেয়নি। এই জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই আমার।’ এই কথা বলতে বলতেই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।
নানা প্রলোভনের পরেও সবং ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, ‘সবংয়ের মানুষই মানস ভুঁইয়াকে তৈরি করেছে। এত বছর ধরে আশীর্বাদ দিয়েছে। সে জন্যই আমি সবং ছেড়ে কোথাও যাইনি।’
যদিও, তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি (BJP)। ঘাটাল সাংঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ‘ভোট এলেই উনি এই সব নাটক করেন। সেটা সবংয়ের মানুষ ভালো করে জানেন।’ তাঁর দাবি, এ বার কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মানস ভুঁইয়া। এ বার তাঁকে হারিয়ে ওই নাটকের জবাব দেবেন সবংয়ের মানুষ।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে জোর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার মানস ভুঁইয়ার লড়াই তাঁর একদা ছায়াসঙ্গী তথা ‘ভোট ম্যানেজার’ অমল পণ্ডার সঙ্গে। বিজেপির প্রার্থী তিনি। তিনিও বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়েছেন । অমল পণ্ডা বলেন, ‘সবংয়ের কোনও উন্নয়ন হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয় এলাকা। কৃষক, শ্রমিক, যুবক সকলেই বঞ্চিত। উন্নতি হয়েছে কেবল তৃণমূলের নেতাদের।’ বিজেপি ক্ষমতায় এলেই প্রকৃত উন্নয়ন হবে বলেও দাবি তাঁর।