এই সময়: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সপ্তাহজুড়ে ঝড়–বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর হাওয়া অফিস। এ বার আগামিকাল, শুক্রবার এবং পরশু শনিবার বাংলার উত্তর ও দক্ষিণ — দুই প্রান্ত মিলিয়ে অন্তত ১২টি জেলায় তীব্র ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হলো। দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা ছাড়াও তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি এবং উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা–র নাম। বাকি জেলাগুলিতে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।
আবহবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গে কাল ও পরশু একটি ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট’ তৈরির সম্ভাবনা খুব বেশি। ‘স্কোয়াল ফ্রন্ট’ হলো দুই বিপরীতধর্মী এবং বিপরীতমুখী বাতাসের একটি সংযোগ অঞ্চল বা ‘কনভারজেন্স জ়োন’। এই জায়গায় পূর্ব ও পশ্চিমমুখী বাতাসের পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কিউমুলোনিম্বাস মেঘের পুরু স্তর ওল্টানো ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের মতো বিন্যাসে তৈরি হয়।
মেঘের এমন বিন্যাসের জন্য সাধারণত প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড় এবং কখনও কখনও ‘ক্লাউডবার্স্ট’–এর ঘটনাও ঘটে। কোনও জায়গায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেই ঘটনাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ক্লাউডবার্স্ট’ বলা হয়। ২০২৫–এর ২৩ সেপ্টেম্বর শহরে এমনই ঘটনা ঘটেছিল। কাল ও পরশু যে তীব্র ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা শোনানো হয়েছে, সেখানে অবশ্য ‘ক্লাউডবার্স্ট’–এর কোনও উল্লেখ নেই।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলিতে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি গতিতে হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অর্থাৎ ‘ভারী বৃষ্টি’–র সতর্কতাও জারি হয়েছে।