• চৈত্রের ফাগুন-বিদ্রোহে খণ্ডঘোষে চাপা উদ্বেগ, এই বিধানসভায় অন্য কিছু হতে চলেছে?
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • রূপক মজুমদার, বর্ধমান

    খণ্ডঘোষ বিধানসভায় শাসকদলের প্রার্থী হিসেবে নবীনচন্দ্র বাগ–এর নাম ঘোষণা হতেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। খণ্ডঘোষ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ছাড়াও সাতটি পঞ্চায়েতের প্রধান ও আটটি অঞ্চলের সভাপতি–সহ কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তা হলে কি এ বার এই বিধানসভায় অন্য কিছু হতে চলেছে?

    অতীতের ছবি ছিল অন্য ধরনের। নির্বাচনের দিন ঘোষণা ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই খণ্ডঘোষ ব্লকের বাদুলিয়ায় দলীয় কার্যালয়ে যে ব্যস্ততা চোখে পড়ত, বুধবার বিকেলে সেই অফিসে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে মোবাইলে গেম খেলছেন ব্লক সভাপতি। পাশে বসে এ বার এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার অন্যতম দাবিদার জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ও শিক্ষক বিশ্বনাথ রায়। ‘আই প্যাক’ দলের সদস্যদের সঙ্গে হলো বৈঠকও। কিন্তু ছবি পাল্টাল কী!

    ২০১৫–তে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে আসেন নবীন। সেই সময়ে খণ্ডঘোষ বিধানসভায় তৃণমূল হেরেছিল ২৩ হাজার ভোটে। ২০১৬–তে নবীনকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। ব্লক সভাপতি তখন অপার্থিব ওরফে ফাগুন। ২৩ হাজার ভোটে হারা আসনে ৩,২০৪ ভোটে জেতেন নবীন। খণ্ডঘোষ বিধানসভায় রয়েছে এই ব্লকের ১০টি ও গলসি–২ ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েত। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটে নবীন এখান থেকে ফের জেতেন ২১ হাজার ভোটে।

    এ দিন ব্লক অফিসে বসে সেই হিসাব দিয়ে ফাগুন বলছিলেন, ‘ব্লক সভাপতি হওয়ার পরে চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলকে কোনও নির্বাচনে হারতে দিইনি। ২০১৯–এ এখানে লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী সুজাতাকে হারাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছেন ওই বিধায়ক। তার পরেও আমার ব্লক থেকে ৩০ হাজার ভোটের লিড দিয়েছিলাম। খোঁজ নিয়ে দেখুন, লোধনা পঞ্চায়েত এলাকার কাপশিট ও বিসনা, এই দু’টি গ্রাম থেকে দু’জনকে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার নামে কত টাকা নিয়েছেন বিধায়ক। এখন তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছেন কিস্তিতে।’

    ফাগুনের সংযোজন , ‘শাখারি-২ পঞ্চায়েতে ২০১৮ থেকে ওঁর বোন চন্দনা রায় প্রধান পদে রয়েছেন। কিসের স্বার্থে? আমরা এত দিন পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষিত হলে এক মুহূর্ত বসে থাকিনি। কিন্তু দলের কাছে যদি মান্যতা না–থাকে, তা হলে কাজ করব কী ভাবে! তাই পুরোপুরি বসে গিয়েছি। দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের বিষয়। আমরা নির্বাচনে কাজ করছি না। বিরোধীরা জিতলে জিতবে। সেটাও নেতৃত্ব বুঝবেন।’

    সগরাই পঞ্চায়েত প্রধান দেবযানী রায়ের মন্তব্য, ‘আমাদের ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে সাতটি পঞ্চায়েতের প্রধান প্রার্থী বদলের পক্ষে।’ কৈয়র পঞ্চায়েতের প্রধান শাজাহান মণ্ডল বললেন, ‘যে বিধায়কের থেকে গত পাঁচ বছরে ন্যূনতম সহযোগিতা পাইনি, তাঁকে সমর্থন নয়।’ গলসি–২ ব্লকের আদরাহাটি পঞ্চায়েত প্রধান দীপা বাগদির মন্তব্য, ‘আমাদের সাতটি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ বিধায়ককে শুধুমাত্র ফেসবুকে ও ছবিতে দেখেছেন।’

    নবীন অবশ্য বলছেন, ‘চাকরি দেওয়া–সহ যে সমস্ত অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। যাঁরা বলছেন, তাঁরাই যখন অনৈতিক ভাবে সুবিধা নিতে গিয়েছেন, আমি প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি দলের সৈনিক মাত্র।’ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘আমরা দলগত ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। ব্লক সভাপতিকে নিয়েই ভোট হবে খণ্ডঘোষে। সাময়িক একটা অভিমান হয়েছে। সব কেটে যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)