সুপ্রকাশ মণ্ডল
পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল–আমেরিকার যুদ্ধের ফলে এ বার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন একরকম আকাশছোঁয়া। আর তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে প্লাস্টিক প্যাকেজিং শিল্পে।
অবস্থা এতটাই খারাপ যে, আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে ওষুধের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁদের ব্যাখ্যা: প্যাকেজিংয়ের কাঁচামাল তৈরি হয় ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল থেকে। যুদ্ধের জন্য ক্রুড ওয়েলের দাম বেড়েছে এবং মাত্র ১০ দিনে এ দেশে প্যাকেজিংয়ের কাঁচামালের দাম বেড়েছে ৫০-৬০ শতাংশ। প্যাকেজিং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যে ভাবে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে, সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁদের ভয়, সরকার এই দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না–পারলে এর প্রভাব আখেরে পড়বে বিভিন্ন সামগ্রীর ক্রেতাদের উপরে। তাই ওই ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার অবিলম্বে প্যাকেজিংয়ের কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ করুক। প্যাকেজিং ব্যবসায়ীদের সংগঠন সোমবার কলকাতায় এ নিয়ে একটি আলোচনাসভারও আয়োজন করেছিল।
প্লাস্টিক তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো রেজি়ন, যা উৎপাদিত হয় পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে পাল্লা দিয়ে বাড়ে এই পলিমারের দাম। এর মধ্যে বিশেষ পলিইথিলিন এবং পলিপ্রোপিলিন-এর দাম গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতার প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদনের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
কলকাতায় প্যাকেজিং ব্যবসায়ীদের সংগঠন 'ওয়েস্ট বেঙ্গল মাস্টার প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর সম্পাদক সুনীল খুরানা বলেন, 'প্লাস্টিকের বোতল থেকে প্লাস্টিক প্যাকেট, সব কিছুই প্যাকেজিং শিল্পের অঙ্গ। এমনকী, ওষুধ প্যাকেজিংয়ের কাঁচামালের উৎসও সেই ক্রুড অয়েল। গত ১০ দিনে এই সব কাঁচা মালের দাম অনেকটাই বেড়েছে। ফলে, আগামী দিনে বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা।'
প্যাকেজিং ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, অল্প কিছু দিনের মধ্যে দুধ, ভোজ্য তেল, বোতলবন্দি পানীয় জল, হালকা পানীয়— সব কিছুরই দাম বাড়তে পারে এবং সেটা পাড়ার মুদির দোকান থেকে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর সর্বত্রই হবে। সুনীল জানান, একদিকে ক্রুড অয়েলের জোগানের ঘাটতি, অন্য দিকে তার দামও বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাব সব দেশেরই প্যাকেজিং শিল্পে কম–বেশি পড়েছে। গোটা দুনিয়ায় গত এক সপ্তাহে কাঁচা মালের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। কিন্তু কলকাতা তথা দেশে সেটা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না প্যাকেজিং ব্যবসায়ীরা।