দুই চিকিৎসক প্রার্থীকে সামনে এনে জেলার দক্ষিণে থাকা হরিণঘাটা ও কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রে বড় লড়াই দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। এক সময় এই দুই কেন্দ্র দীর্ঘদিনের ‘বামদুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেখানে তৃণমূলের উত্থান হলেও গত বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি আসনই হাতছাড়া হয় তাদের। জয়ী হয় বিজেপি।
আপাতত দলীয় কোন্দল কাটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ এবং মতুয়া প্রার্থীকে সামনে রেখে নদিয়ার এই দক্ষিণ প্রান্তে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কল্যাণীতে প্রার্থী করা হয়েছে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ডেপুটি সুপার অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। হরিণঘাটায় প্রার্থী কল্যাণী জেএনএমের প্রাক্তনী রাজীব বিশ্বাস। ঘটনাচক্রে দুই প্রার্থীই চিকিৎসক, মতুয়া এবং বগুলার আদি বাসিন্দা।
২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হরিণঘাটা ও কল্যাণী তৃণমূলের দখলে থাকলেও, ২০২১ সালে দু’টি আসনই বিজেপির কাছে হারায় তারা। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকেই এই দুই কেন্দ্রে বিজেপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়া নদিয়ার এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এগিয়ে ছিল বিজেপি। হরিণঘাটায় ১০ হাজারের বেশি এবং কল্যাণীতে নয় হাজারের বেশি ভোটে ‘লিড’ পায় তারা।
দক্ষিণ নদিয়ার মতুয়া বলয়ে অবস্থিত এই দুই কেন্দ্রে এ বার বড় নির্ণায়ক বিষয় হিসাবে উঠে এসেছে এসআইআর। কল্যাণীতে প্রায় ৫০ হাজার এবং হরিণঘাটায় প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারকে এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে ইতিমধ্য়ে বড় সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে যাদের বেশির ভাগই হিন্দু। আবার ৩০ হাজারের বেশি ভোটারের নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ লেখা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ও উদ্বাস্তু হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের উপর ভর করেই বিজেপি জয় পেয়েছিল। সেই ভোটব্যাঙ্ককেই এ বার নিশানা করছে তৃণমূল। দুই কেন্দ্রে এ বারের নির্বাচন তাদের কাছে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই।
তবে নাম ছাঁটাইয়ের জেরে ভোটারের বিন্যাস পাল্টে গেলেও লড়াইটা যে দুই পক্ষের জন্যই কঠিন, তা ওয়াকিবহাল মহলের সকলেই জানে। সেই বৈতরণী পার হবেন কী করে ডাক্তারবাবুরা? অতীন্দ্রনাথের বক্তব্য, “সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে নতুন হলেও দীর্ঘদিন ধরে আমি মানুষের জন্য কাজ করছি। এখানকার মানুষ আমায় চেনেন।” আর রাজীব বলেন, “নদিয়া জেলার সঙ্গে আমার যোগ বহু দিনের। আমার বড় হয়ে ওঠা থেকে কলেজে পড়াশোনা সব এই জেলাতেই। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে সফল হতে এখানকার মানুষই আমার ভরসা।”
হরিণঘাটার বিদায়ী বিধায়ক, লোকগায়ক অসীম সরকারের উপরেই আস্থা রেখে তাঁকেই ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কল্যাণী কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি। বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষের দাবি, “নতুন প্রার্থী এনেও তৃণমূল জয়ী হতে পারবে না। রাজ্যের মানুষ জানে দলটা আসলে কী!” তৃণমূলের রানাঘাট সংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, “নিঃশর্ত নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি যে ভাঁওতা দিয়েছে তা মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে। এ বার মানুষ ওদের আর ভোট দেবে না।”