• ইদে ফিরতে নেই পর্যাপ্ত ট্রেন, দাবি
    আনন্দবাজার | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ট্রেনের মধ্যে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কেউ বা ট্রেনে জায়গা না পেয়ে দলবদ্ধ ভাবে বাস ভাড়া করে জেলায় ফিরছেন।

    পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ, মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ফোরাম-সহ একাধিক সংগঠন রেলের কাছে ইদের আগে একাধিক বিশেষ ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছিল। ব্যক্তিগত ভাবে চিঠি দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী থেকে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। একই দাবি জানিয়েছিলেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিয়ালদহ ডিভিশনের তরফ থেকে তিনটি ইএমইউ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হলেও তাতে কোনও সুবিধা হবে না বলেই মত সকলের। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি অবশ্য বলেন, “ট্রেনের চাহিদা থাকলে বা চাহিদার দাবি পেলে তবেই বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয়। টিকিট বিক্রি বা আরও অন্যান্য বিষয় দেখে তবেই সেই ট্রেন দেওয়া হয়ে থাকে। তিনটি ট্রেন শিয়ালদহ ডিভিশনে চলবে।”

    মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ফোরামের সভাপতি রাজেন্দ্র তাতেরের মতে, “১৯, ২০, ২২ তারিখ একটি করে মোট তিনটি বিশেষ ট্রেন চলবে বলা হয়েছে। কিন্তু এই ট্রেন আরও বেশি সংখ্যক এবং আরও অনেক আগে থেকে চালানো দরকার ছিল।”

    পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “রমজান ও ইদের সময় মানুষের ঘরে ফেরা এবং উৎসব শেষে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যাত্রীদের চাহিদা ও সময় অনুযায়ী অতিরিক্ত ট্রেনের বরাদ্দ করা দরকার ছিল। রেল দফতর পুজোর সময়, আইপিএলের সময় বিশেষ ট্রেন চালায়, প্রধানমন্ত্রীর সভা উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে, কিন্তু ইদের আগে ভিন্ রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে দূরপাল্লার বিশেষ ট্রেন চালায় না। কম দূরত্বের যে সব ট্রেন চালানো হয়, তাও ঠিক দিনে চলে না। রেল ভিন্ রাজ্যে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে। আমরা ফেব্রুয়ারি থেকে রেলের কাছে বিশেষ ট্রেনের আবেদন জানিয়ে এসেছি।”

    বুধবার সন্ধ্যায় ভগবানগোলা স্টেশনে ট্রেন থেকে নামেন রাহুল শেখ। তিনি বলেন, “বসার জায়গা দূরের কথা, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ট্রেনের দাঁড়িয়ে আসা যাচ্ছে না। খুব কষ্টে ফিরলাম।” ট্রেনে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী কেশব দাস বুধবার বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে প্রায় সব ট্রেনেই ভিড় বাড়ছিল। আজ ট্রেনে ভিড় অতিরিক্ত বেশি ছিল।”

    ট্রেন না পেয়ে দলবদ্ধ ভাবে বাস ভাড়া করে বাড়ি ফিরেছেন ভগবানগোলা ও লালগোলা-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের আসাদ আলি, গোফুর শেখ, তারিক ইসলামের মতো অনেকে। তাঁরা বলেন, “ট্রেনে যা ভিড় ছিল, তাতে ওঠা সম্ভব হয়নি।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)