• ভিডিয়ো কলে ‘গৃহবন্দি’ করে তিন কোটি টাকা প্রতারণা, ধৃত তিন
    আনন্দবাজার | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ভিডিয়ো কলে প্রৌঢ় দম্পতিকে ‘নজরবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন। বাড়ির কাজে বাইরে বেরোতে হলেও ‘নজর’ থেকে রেহাই মিলত না। সর্বক্ষণ মোবাইলের ভিডিয়ো কল ‘অন’ রেখে বেরোতে হত। গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে চার দিনে কয়েক দফায় দম্পতির একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল প্রায় তিন কোটি টাকা।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে তিন জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। অভিযোগ, সিম বক্স ব্যবহার করে অভিযুক্তেরা ডিজিটাল গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করত। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক সিম বক্সের পাশাপাশি দু’হাজারেরও বেশি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, ধৃত তিন জনের নাম আবির শেখ, মহম্মদ আমজাদ এবং অর্পণ শিকদার। আবির এবং আমজাদকে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করা হলেও অর্পণকে গত মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে ধরা হয়। তার বাড়ি থেকে একাধিক সিম কার্ড এবং সিম বক্স উদ্ধার করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জেনেছে, অভিযুক্ত অর্পণ বান্ধবীর নথি ব্যবহার করে তাঁর বাড়িতে সিম বক্স রেখে প্রতারণা সংগঠিত করত। এই চক্রটির সঙ্গে বিদেশের যোগও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগকারী প্রৌঢ় পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। কর্মজীবন থেকে অবসরের পরে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। গত বছরের অক্টোবরে ওই প্রৌঢ়কে এক ব্যক্তি ফোন করে। সে নিজেকে সিবিআই কর্তা বলে পরিচয় দিয়ে প্রৌঢ়কে জানায়, তাঁর নথি ব্যবহার করে মাদক পাচার-সহ একাধিক বেআইনি কাজ করা হয়েছে।

    অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এর পরে ১৪ অক্টোবর ফের তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। তাতেই ভিডিয়ো কলে তদন্তের নামে প্রৌঢ় এবং তাঁর স্ত্রীকে ‘নজরবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। সেই সঙ্গে তদন্তের নামে অভিযোগকারীর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা পাঠানোর জন্য ভয় দেখানো হয়। এ-ও বলা হয়, টাকা না দিলে তাঁদের সরাসরি গ্রেফতার করা হবে।

    অভিযোগকারী প্রৌঢ় পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি গ্রেফতারির ভয়ে তাঁদের চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট তিন কোটি টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। সাত দিনের মধ্যে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তেরা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই প্রৌঢ় লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন।

    তদন্তে নেমে প্রতারণার টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তদের সন্ধান পায় পুলিশ। প্রথমে আমজাদ এবং আবীরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ধরা হয় অর্পণকে। লালবাজারের জানিয়েছে, আপাতত পাঁচ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)