আইএসআই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বরাহনগর ক্যাম্পাসে! মোমবাতি ও মশাল হাতে রাস্তায় মিছিল, শামিল শিক্ষক-পড়ুয়া-কর্মীদের একাংশ
আনন্দবাজার | ১৯ মার্চ ২০২৬
উত্তপ্ত কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) চত্ত্বর। এ বার আইএসআই বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন শিক্ষক থেকে পড়ুয়ারা। আন্দোলনে শামিল হন কর্মী এবং প্রাক্তনীরাও। বুধবার বিকেলে তাঁরা মোমবাতি এবং মশাল হাতে রাস্তায় নামেন।
বুধবার আইএসআইয়েরর ছাত্র, কর্মী, অধ্যাপক এবং প্রাক্তনদের একাংশ ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ পরে মোমবাতি এবং মশাল মিছিল করেন রাস্তায়। বিক্ষোভে তাঁরা এই খসড়া বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ১১ই মার্চ রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার লোকসভায় আইএসআই এবং প্রস্তাবিত খসড়া বিল নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ উঠছে, আইএসআই সম্পর্কে সীমিতে তথ্য এবং প্রতিস্থানের ঐতিয্য সম্পর্কে বিশেষ না জেনে, এই প্রশ্নগুলি করেন জগন্নাথ। প্রশ্ন এবং তার উত্তরগুলি সম্ভবত পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক নিজেই তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ উঠেছে, আইএসআইয়ের বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়েই মন্ত্রক তড়িঘড়ি করে বিলটি ক্যাবিনেটে অনুমোদনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যেখানে আইআইএম অ্যাক্ট তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছিল, সেখানে এই বিলটি মাত্র পাঁচ থেকে ছ’মাসের মধ্যে কার্যকর করার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয় আইএসআইয়ের সহযোগী অধ্যাপক (অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ) কুন্তল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, “সত্যিই আইনের পরিবর্তন আনার দরকার আছে কি না সেই নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু একপাক্ষিক কেউ মনে করছেন আইনের পরিবর্তনের দরকার আছে এবং সেটাও যে কারা মনে করছেন তা-ও খুব একটা পরিষ্কার নয়।” তাঁর সংযোজন, “১০ বছর অন্তর অন্তর সরকারের সেকশন ৯১ কমিটি (সংবিধিবদ্ধ সংস্থা) আমাদেরকে রিভিউ করে। সরকারের আইন অনুযায়ী, ওই কমিটি কখনও আমাদের বলেনি আইএসআইয়ের আইনের পরিবর্তন দরকার। অথচ, কে বা কারা মনে করছেন আইএসআইয়ের পরিবর্তন দরকার আমরা জানি না। তা সত্বেও আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।” তাঁর দাবি, একপাক্ষিক ভাবে আইনটা চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।
এ বিষয় ‘আইএসআই ওয়ার্কার্স অর্গানাইজেশন’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, এই নতুন বিল কর্মীদের চাকরির শর্তাবলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আইএসআইয়ের সোসাইটি, কাউন্সিল এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল এই বিলের বিরোধিতা করেছে। এমন কি আইএসআইয়ের প্রাক্তনী তথা একমাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘আবেল’ পুরস্কার প্রাপ্ত এসআর শ্রীনিবাস বর্ধন-সহ অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। আইএসআইয়ের অধ্যাপক ও কর্মীরা এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই একটি সাংবাদিক বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-এর আইএসআই বিল বর্জন করার ডাক উঠেছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইএসআই সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও। কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারিকরণ রুখে দেওয়ারও আহ্বান সেখানে। সেই ব্যাজ পরেই সমাবর্তনের মঞ্চে পিএইচ ডি ডিগ্রি নিতে উঠছিলেন শিক্ষার্থীরা। যা দেখে নিষেধ করেছিলেন কয়েক জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।