টিকিট মেলেনি। রাত পোহাতেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দল তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তোপ দাগলেন মন্ত্রী তথা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক তজমুল হোসেন। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘আমি বেইমান নই। কিন্তু দল আমার সঙ্গে বেইমানি করেছে। আমার সাজানো বাগানে চাষ করবেন অন্য কেউ, এটা মানতে পারছি না।’’ এরই পাশাপাশি, মতিবুর রহমান টাকার বিনিময়ে টিকিট পেয়েছেন বলে তোপ দেগেছেন তজমুলের অনুগামীরা।
ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে ২০১৫ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তজমুল। ২০১৬ সালে হেরে গেলেও ২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী মতিবুর রহমানকে হারিয়ে জয়ী হন। সম্প্রতি শাসক-শিবিরে নাম লেখান মতিবুর। ‘মতিবুর ভাল ছেলে, এতে দলের ভাল হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তজমুল। কিন্তু মতিবুর টিকিট পাওয়ার পরে রাত পোহাতেই বুধবার বাংরুয়ায় বাড়িতে অনুগামীদের নিয়ে ডাকা বৈঠকে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী। তজমুল বলেন, ‘‘দলের নির্দেশমতো কাজ করেছি। সব সময় মানুষের পাশে থেকেছি। দল বলতে পারত, তজমুল এ বার বসে যাও। আমি বসে যেতাম। কিন্তু যা করা হল তাতে আমি লজ্জিত, মর্মাহত। যে পার্টির ‘প’ জানে না, সে কী ভাবে টিকিট পায়? ২০১৫ থেকে এখানে দলকে সাজিয়ে তুলেছি। সেই সাজানো বাগানে অন্য কেউ এসে চাষ করবে, এটা হয় না।’’
এ দিন দল ছাড়ার ঘোষণা না করলেও অনুগামীদের মতো নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন বলে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন মন্ত্রী। যদিও দলকে নিশানা করার পরে তার দলে থাকা সম্ভব কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা শেখ ইউসুফ বলেন, কান পাতলেই শুনতে পাচ্ছি, পরামর্শদাতা সংস্থা ২০ কোটি টাকা নিয়ে মতিবুরকে টিকিট দিয়েছে। কিন্তু কেউ ওকে মেনে নেবে না।” এই প্রসঙ্গে মতিবুর বলেন, “আসলে টাকা দিয়ে পঞ্চায়েত স্তরে টিকিট কেনাবেচার অভ্যাস রয়েছে মন্ত্রীর। তাই তিনি দল এবং আমার বিরুদ্ধে এমন কথা বলছেন।” জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, “রাজ্য কমিটির নেতারা তালিকা তৈরি করেছেন। তাঁরা যা করেছেন, ঠিক করেছেন।”