গত দশ বছরে পর পর ভোটে আসন সমঝোতা করে লড়েছে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট। এ বার লড়াই আলাদা। কাঁকসায় দু’পক্ষই নেমে পড়েছে প্রস্তুতিতে। বামেরা প্রার্থীও ঘোষণা করে দিয়েছে। দু’পক্ষেরই দাবি, আসন সমঝোতা করে লড়াইয়ে ক্ষতি হচ্ছিল। এ বার তা না হওয়ায়, উজ্জীবিতদলের কর্মীরা।
কাঁকসা ব্লকের চারটি পঞ্চায়েত রয়েছে গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে, তিনটি দুর্গাপুর পূর্বে। দু’টি কেন্দ্রেই বামেরা প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে নেমেছে। কংগ্রেসের এখনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। দু’পক্ষের কর্মীদেরই দাবি, এ বার জোট না হওয়া নিয়ে তাঁরা একেবারেই বিচলিত নন। গলসি বিধানসভার মধ্যে কাঁকসার যে চারটি পঞ্চায়েত রয়েছে, সেখানে পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএম তুলনায় ভাল ফল করেছিল। দলের কয়েক জন পঞ্চায়েত সদস্য ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রয়েছেন এলাকায়। তবে কংগ্রেসের কোনও জনপ্রতিনিধি নেই।
সিপিএমের কাঁকসা ব্লকের এক নেতার দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিচুতলার সিপিএম কর্মীরা মেনে নিতে পারেননি। তাই এ বার একা লড়াই করা তাঁদের কাছে বেশি পছন্দের। দলের এই সিদ্ধান্তে কর্মীরা খুশি। ওই নেতার কথায়, ‘‘গলসি বিধানসভা এলাকায় কংগ্রেসের আদৌ কতটা ভোট রয়েছে, তা জানা নেই।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অলোক ভট্টাচার্যেরও বক্তব্য, ‘‘কংগ্রেসের এখানে কী সংগঠন রয়েছে, আমার জানা নেই। আমরা নিজেদের সংগঠন নিয়ে কাঁকসা ও বুদবুদ এলাকায় লড়াই করব।’’
আসন সমঝোতা নিয়ে আগ্রহ নেই বলে দাবি কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদেরও। তাঁরা জানান, ২০০৯ সাল দল কখনও তৃণমূল, কখনও বামেদের সঙ্গে জোট করেছে। তাতে দলের খুব একটা সুবিধা হয়নি। বরং, সংগঠন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তাই একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত ঠিক বলে মত তাঁদের। কংগ্রেসের কাঁকসা ব্লক সভাপতি পূরব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের কর্মীরা নিজেদের প্রতীকে ভোট দিতে চান। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে প্রতিটি আসনে লড়াইয়ের কথা ঘোষণায় কংগ্রেস কর্মীরা অনেকটাই চাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘‘আমরা একা লড়তে চাই। ভোটের ফল যাই হোক না কেন, কংগ্রেস নিজের প্রতীকে লড়াই করবে, এটাই বড় পাওনা।’’
বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মার দাবি, ‘‘এই দুই দল বিরোধী ভোট ভাগ করে তৃণমূলের সুবিধা করতে চাইছে। তবে মানুষ এ বার তৃণমূল ছাড়াও, বাম ও কংগ্রেসকে ছুড়ে ফেলবে।’’ তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বামের ভোট তো কবেই রামে গিয়েছে। কংগ্রেসের নিজস্ব কোনও ভোট নেই। এই দুই দল তৃণমূলের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।’’