• বয়স কারণ হলে অনেকে বাদ পড়তেন, দাবি ক্ষুব্ধ সৌমেনের
    আনন্দবাজার | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • প্রথমে মন্ত্রিত্ব ও পরে তৃণমূল জেলা সভাপতির পদ খুইয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর নিরাপত্তায় কাটছাঁট করার পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের 'সেকেন্ড ইন কম্যান্ড' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন তমলুকের বিদায়ী বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র। বিধানসভা ভোটে এ বার টিকিট না-ও জুটতে পারে, এমন একটা কথা দলের অন্দরে চাউর হয়েছিল। সেটাই সত্যি হয়েছে। দলের প্রার্থী তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন সৌমেন। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল তমলুকের প্রাক্তন পুরপ্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে।

    এমনিতেই পায়ে অস্ত্রোপচার হওয়ার পরে এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। তার উপরে বাদ পড়ার খবর জানার পর প্রথম দিন কার্যত সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিলেন সৌমেন। বুধবার যখন মুখ খুললেন তখন বর্ষীয়ান নেতার গলায় ধরা পড়ল ক্ষোভ, অভিমান আর হতাশা। বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে বললেন, ‘‘বয়স যদি ফ্যাক্টর হত তাহলে দলের আরও অনেকে এ বার প্রার্থী তালিকায় স্থান পেতেন না।’’ অর্থাৎ বাদ পড়ার কারণ বয়স নয়। তবে কারণ কী? সরাসরি উত্তর এড়িয়ে জবাব দিলেন, ‘‘ভালই হল। পায়ের অবস্থা ভাল নয়। প্রচারে বেরিয়ে অসুবিধায় পড়তাম। তার থেকে রক্ষা পেলাম।’’ নতুন প্রার্থী নিজে থেকে না ডাকলে তাঁর হয়ে যেচে প্রচারে যাবেন না বলেও এ দিন জানান সৌমেন।

    যাঁরা দু’দিন আগেও দলে তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রাতারাতি নেতা বদল করে দীপেন্দ্রনারায়ণের সঙ্গে ঘোরাঘুরি শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। পদ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অনুগামীদের দ্রুত নিজের পাশ থেকে অদৃশ্য হতে দেখছেন সৌমেন। একরাশ অভিমান নিয়ে বলেছেন, ‘‘দল জেতার জন্য এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যাঁকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাঁকে প্রার্থী করেছে। আমার কিছু বলার নেই। তবে প্রার্থী ডাকলে, দলীয় নেতৃত্ব চাইলে তাঁর প্রচারে যাব। না ডাকলে আমি যেচে যাব না। এখনও প্রার্থী বা নেতৃত্ব আমাকে ফোন করেননি।’’

    ইতিমধ্যে দীপেন্দ্রনারায়ণের নাম ঘোষণার পরে প্রার্থীর সমর্থনে দেওয়াল লিখন, প্রচারে নেমে পড়েছেন সৌমেন মহাপাত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তমলুকের পুরপিতা তথা তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া-সহ দলের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সকালেও দীপেন্দ্রর সঙ্গে চঞ্চল-সহ দলের নেতা-কর্মীরা তমলুক শহরের গঞ্জনারায়ণপুরে কালীমন্দিরে পুজো দেন।

    সৌমেন টিকিট না পাওয়ায় তমলুকে শাসক শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসেছে। সেটা আন্দাজ করেই হয়তো গত মঙ্গলবারই সৌমেনের দাবি মেনে তাঁর বাড়ির সামনে নিরাপত্তার জন্য ফের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ভাবে সৌমেনকে কিছুটা শান্ত করে ভোটের আগে তৃণমূল নেতৃত্ব দলে অন্তর্কলহ সামলাতে চাইছেন বলেঅনেকের ধারণা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)