• বান্ধবীর নথি ব্যবহার করে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ! ৩ কোটি টাকার প্রতারণা, অশোকনগরে গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য
    বর্তমান | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বান্ধবীর বাড়িতেই বাস। তাঁরই আধার আর প্যান কার্ড ব্যবহার করে তৈরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালাচ্ছিলেন অশোকনগরের যুবক। উদ্দেশ্য— ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতানো!
    কলকাতার এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে ‘ভিডিও নজরদারি’তে বন্দি করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই মামলার তদন্তে নেমে অশোকনগরের একটি মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পায় কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগ। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পুলিশি ‘আতসকাচ’-এর তলায় ধরতেই বেরিয়ে আসে, নেপথ্যে থাকা ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র এবং তার এক সদস্যের ইতিবৃত্ত। তাকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজারের সাইবার থানা। ধৃতের নাম অর্পণ সিকদার। বান্ধবীর নামে খোলা মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকা জমা করত সে। সেই অ্যাকাউন্টটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে এই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের নাম আবির শেখ ও মহম্মদ আমজাদ। তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তাদের যোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার একটি যোগসূত্র পেয়েছেন সাইবার গোয়েন্দারা।
    বুধবার লালবাজারে এই মামলা সংক্রান্ত সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার। তিনি বলেন, শহরে একটি বড়সড় ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রতারণা ঘটে গত বছরের অক্টোবরে। অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার বিধান ঘোষদস্তিদার গত ৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পান। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, ‘একটি ক্যুরিয়ার সংস্থায় আপনার তথ্য ব্যবহার করে একটি পার্সেল যাচ্ছিল। সেটি মুম্বই বিমানবন্দরে আটকানো হয়েছে। তাতেই বেআইনি জিনিসপত্র রয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখছেন ইডি ও সিবিআই আধিকারিকরা।’

    এরপরে ফের ১৪ অক্টোবর একটি ভিডিও কল পান ৬৬ বছরের বয়স্ক বিধানবাবু। সিবিআই আধিকারিক অমিত কুমার পরিচয় দিয়ে তাঁকে একজন ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে। ভুয়ো আইডি কার্ড দেখিয়ে বলা হয়, ‘আপনাকে এখন থেকে ভিডিও নজরদারিতে থাকতে হবে। আপনার সমস্ত ব্যাংকে নথি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। তদন্তে অসহযোগিতা করলেই আপনার বাড়িতে সশরীরে গিয়ে সিবিআই আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করবেন।’ এই গ্রেপ্তারির ‘হুমকি’ শুনেই ভয় পেয়ে যান ইঞ্জিনিয়ার। তার জেরে নিজের সারাজীবনের পুঁজি, ফিক্সড ডিপোজিট সহ সমস্ত তথ্য প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। মামলা চালানোর জন্য আরও টাকা দাবি করা হয়। লালবাজারের দাবি, দফায় দফায় মোট ৩ কোটি ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এই প্রক্রিয়া চলে ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই পর্বে ১২০ ঘণ্টা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার।

    প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সাইবার থানার দ্বারস্থ হন বিধানবাবু। তদন্তভার গ্রহণ করে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ তদন্তকারী শাখা। ১৫ ফেব্রুয়ারি আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে মহম্মদ আমজাদকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় ১২টি সিমবক্স ও ২ হাজার সিম কার্ড। ধৃত জানায়, ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রতারণা কান্ডে তার এক সঙ্গী আবির শেখ জেল খাটছে। আবির শেখকে শোন-অ্যারেস্ট করে পুলিশ। তাদের জেরা করে অশোকনগরের এক মহিলার বাড়ি থেকে তাঁর প্রেমিক অর্পণ সিকদারকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। সেখানে উদ্ধার হয় আরও ৬টি সিম বক্স ও ১২০টি সিমকার্ড।
  • Link to this news (বর্তমান)